অমিত শাহের অনুষ্ঠানে মুসলিম আমলাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ! সোজা রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ মহুয়া মৈত্র, শোরগোল রাজ্যে

শাহের ইভেন্টে মুসলিম আমলাদের ‘ব্রাত্য’ রাখার অভিযোগ! আন্তর্জাতিক মঞ্চে নালিশ জানিয়ে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ মহুয়া মৈত্র

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য সফরে মুসলিম পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে প্রোটোকলের বাইরে রাখার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক স্তরে পদক্ষেপ করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দফতরের বিশেষ দূত নিকোলাস লেভরাটের কাছে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। মহুয়ার এই বিস্ফোরক পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঠিক কী অভিযোগ তুলেছেন মহুয়া?

গত জুলাই এবং অগস্ট মাসে রাজ্য সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মহুয়ার দাবি, সেই সময়কার তিনটি পৃথক সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যের তিনজন সিনিয়র মুসলিম আইএএস এবং আইপিএস অফিসারকে অপমানজনকভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা, রাজ্য পুলিশের এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস অফিসার খলিল আহমেদ।

তৃণমূল সাংসদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ওয়াকার রাজাকে অভ্যর্থনার লাইন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জাভেদ শামিমকে কোনো আমন্ত্রণই জানানো হয়নি এবং খলিল আহমেদকে একটি নির্ধারিত বৈঠক থেকে মাঝপথে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মহুয়ার দাবি, বাকি আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার অনুমতি থাকলেও শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে এই তিনজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকার এবং মৌলিক নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ঘটনাটির আন্তর্জাতিক তদন্ত ও ভারত সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার পাশাপাশি শাহের সফরের সিসিটিভি ফুটেজ ও ট্যুর ডায়েরি সংরক্ষণের দাবিও তুলেছেন তিনি। এর আগে এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় তাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে এফআইআর দায়ের হয় এবং সাইবার ক্রাইম শাখা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে। কিন্তু দমে না গিয়ে তিনি সোজা আন্তর্জাতিক মঞ্চের দরজায় কড়া নেড়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

মহুয়া মৈত্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরেও শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান (রানা) এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও জানান, যদি এটি সত্যি হয় তবে তা সাংবিধানিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চক্রবর্তীও বিষয়টি খতিয়ে দেখার পক্ষে সওয়াল করে জানান, প্রশাসনিক কাঠামোয় কখনওই ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, মহুয়ার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য বিজেপি তীব্র আক্রমণ শেনেছে। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার কটাক্ষ করে বলেন, ওঁর কোনো কাজ নেই বলেই তিনি এই ধরনের ‘ডাহা মিথ্যে’ কথা বলে বেড়াচ্ছেন। প্রশাসন কাকে কোথায় কীভাবে ব্যবহার করবে, তা সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব বিষয়। এই বিষয়ে মহুয়া দেবীর নাক গলানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও পালটা তোপ দেগেছে গেরুয়া শিবির।