বাংলা নাকি বিদেশ? এই গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ—সকলের মুখে এক ছান্দসিক ফ্রেঞ্চ-ইংরেজির বুলি, জানলে চমকে যাবেন!

গ্রাম মানেই কি কেবল মেঠো পথ, কৃষিজমি আর গতানুগতিক জীবনযাত্রা? এই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে গোটা দেশের নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গের একটি বিশেষ জনপদ। ঐতিহাসিক দুর্গ বা কোনো পর্যটনকেন্দ্রের জন্য নয়, বরং এই গ্রামটির পরিচিতি গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ অন্য এক কারণে—ইংরেজি ভাষা। ভাবুন তো, বাংলার কোনো এক গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ দেখলেন আট থেকে আশি—সকলের মুখেই অনর্গল ইংরেজি বুলি ফুটে বেরোচ্ছে! এমনকী বাড়ির অন্দরমহল থেকেও ভেসে আসছে স্পোকেন ইংলিশ বা আইইএলটিএস (IELTS) ক্লাসের পরিচিত শব্দ। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাংলার মালদা জেলার কালিয়াচক আজ ঠিক এমন এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

ঘরে ঘরে টিউশন সেন্টার আর ইংরেজি চর্চা

কালিয়াচকে ইংরেজি আজ কেবল স্কুলের গণ্ডিবদ্ধ কোনো পাঠ্য বিষয় নয়, বরং এটি এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা এবং কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। গ্রামের অলিগলিতে তাকালেই চোখে পড়বে ছোট ছোট কোচিং সেন্টার আর হোম টিউশনের রমরমা। এখানকার বহু পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইংরেজি শিক্ষার এই ধারা বজায় রয়েছে। গুরুজনরা যে পথ দেখিয়েছেন, পরবর্তী প্রজন্ম সেই শিক্ষাকে সম্বল করেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছে। কেউ স্থানীয় ছেলেমেয়েদের পড়ুয়া তৈরি করছেন, আবার কেউ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশ ছাড়িয়ে সুদূর বিদেশের পড়ুয়াদেরও ইংরেজি শেখাচ্ছেন।

গ্রাম থেকে দিল্লি-মুম্বই ও বিদেশ

কালিয়াচকের শিক্ষকদের কাজের পরিধি এখন আর কেবল স্থানীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখানকার বহু শিক্ষক নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার জোরে রাজধানী দিল্লি, আর্থিক রাজধানী মুম্বই কিংবা তথ্যপ্রযুক্তির শহর বেঙ্গালুরুর বড় বড় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার আন্তর্জাতিক স্তরে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে গ্লোবাল টিচার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ছোটবেলা থেকেই বাড়ির কচি-কাঁচাদের ইংরেজি বলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে অভিভাবকরাও নানা উদ্যোগ নেন। স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও ভাষার চর্চাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃষি ও ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষার জয়যাত্রা

অবশ্য কালিয়াচকের পরিচিতি কেবল ইংরেজি চর্চাতেই আটকে নেই। এখানকার মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী প্রচলিত কৃষিকাজ, আমের বাগান কিংবা রেশম ও পাটের ছোট ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে একটিমাত্র দক্ষতার জোরে কালিয়াচক আজ বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে সারা দেশের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।