দুধে জল নাকি ক্ষতিকর কেমিক্যাল? সর্ষের তেল আসল তো? বাড়িতেই ৫ সেকেন্ডে পরীক্ষা করুন!

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ এবং সর্ষের তেল অন্যতম প্রধান দুটি উপাদান। স্বাস্থ্য সচেতনতার যুগে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে এই দুই জিনিসের ওপর ভরসা রাখেন প্রায় সব পরিবারই। কিন্তু ইদানীং বাজারে মুনাফালোভীদের কারসাজিতে খাবারে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সুন্দর রঙের আড়ালে এবং অতিরিক্ত ফেনা তৈরি করতে সর্ষের তেল ও দুধে মেশানো হচ্ছে নানাবিধ ক্ষতিকর রাসায়নিক। কিন্তু আপনার ব্যবহৃত তেল বা দুধ খাঁটি কি না, তা বুঝতে দামি ল্যাবরেটরিতে দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে বসেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে খাঁটি ও ভেজাল চিনে নিতে পারেন এই সহজ কয়েকটি উপায়ে।
১. ঘরে বসেই খাঁটি দুধ চেনার ৩টি সহজ পরীক্ষা
গড়িয়ে নেওয়ার পদ্ধতি (Slick Test): একটি পরিষ্কার, মসৃণ ও সামান্য ঢালু কাচ বা স্টিলের পাতের ওপর এক ফোঁটা কাঁচা দুধ ফেলুন। যদি দুধের ফোঁটাটি আস্তে আস্তে গড়িয়ে যায় এবং পেছনে একটি সাদা দাগ বা রেখা রেখে যায়, তবে বুঝবেন দুধটি খাঁটি। কিন্তু দুধের ফোঁটাটি যদি কোনো দাগ না রেখে অত্যন্ত দ্রুত গড়িয়ে নিচে নেমে যায়, তবে বুঝতে হবে তাতে প্রচুর পরিমাণে জল মেশানো রয়েছে।
ফেনা পরীক্ষা (Detergent Test): একটি কাচের বোতল বা বয়ামে সমপরিমাণ দুধ ও জল মিশিয়ে কয়েক সেকেন্ড খুব জোরে ঝাঁকিয়ে নিন। যদি মিশ্রণের ওপরে ঘন ও বেশি ফেনা তৈরি হয় এবং তা অনেকক্ষণ স্থির হয়ে থাকে, তবে নিশ্চিত থাকুন সেই দুধে ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো আছে। খাঁটি দুধে ঝাঁকানোর পর সামান্য হালকা ফেনা হলেও তা মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে যায়।
সংশ্লেষিত বা কৃত্রিম দুধ চেনার উপায় (Synthetic Milk Test): কৃত্রিম দুধ বা কেমিক্যাল মেশানো দুধ একটু গরম করলেই তার রঙ কিছুটা হলদেটে হয়ে যায়। এছাড়া দুই হাতের তালুতে সামান্য কাঁচা দুধ নিয়ে ডললে যদি সাবানের মতো পিচ্ছিল অনুভূতি হয়, তবে সেই দুধ ব্যবহার না করাই ভালো।
২. সর্ষের তেলে ভেজাল চেনার সহজ উপায়
বাজারের সর্ষের তেলে অনেক সময় কম দামি তেলের পাশাপাশি আর্জিমন তেল (Argemone Oil) কিংবা ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খাঁটি সর্ষের তেল চেনার জন্য নিচের পদ্ধতিটি প্রয়োগ করতে পারেন:
ফ্রিজিং টেস্ট (Freezing Test): একটি কাচের বাটিতে বা ছোট পাত্রে কিছুটা সর্ষের তেল নিয়ে ফ্রিজের বাটার বা সাধারণ চেম্বারে (ডিপ ফ্রিজে নয়) ২ থেকে ৩ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করার পর যদি দেখা যায় তেলের ওপরে সাদা বা মাখনের মতো পুরু আস্তরণ জমেছে অথবা পলল জমতে শুরু করেছে, তবে বুঝবেন তেলটি ভেজাল। খাঁটি সর্ষের তেল সাধারণ কম তাপমাত্রায় সহজে জমে যায় না বা জমাট বাঁধে না।
গন্ধ ও ঝাঁঝ পরীক্ষা: খাঁটি সর্ষের তেলের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো তার গাঢ় প্রাকৃতিক গন্ধ এবং ঝাঁঝ। তেলে যদি কোনো অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পান অথবা রান্নার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ফেনা হতে থাকে, তবে সেটিতে ভেজাল মেশানো থাকতে পারে।
প্রতিদিনের সুস্থতার জন্য পরিবারের খাবার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোনো নামী ব্র্যান্ড বা খোলা বাজার—যেখান থেকেই জিনিস কিনুন না কেন, একটু সতর্ক হয়ে এই ঘরোয়া পরীক্ষাগুলো চালিয়ে নিলেই জালিয়াতি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।