পাহাড়ে হানিমুনের আনন্দ মুহূর্তে বিভীষিকা! সিটংয়ের হোমস্টেতে বারবিকিউ করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে ছাই নববধূ

পাহাড়ের বুকে স্বপ্নের হানিমুন এক নিমেষে বদলে গেল বিভীষিকায়। দার্জিলিং জেলার মনোরম পাহাড়ি গ্রাম সিটং-এ বারবিকিউ তৈরি করার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত হয়েছেন এক তরুণী নববধূ। গত রবিবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা সমীর ও নিকিতা মাত্র দুই মাস আগে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। বিয়ের পর এটিই ছিল তাঁদের প্রথম একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণে ক’য়েকদিন আগেই তাঁরা সিটং-এর একটি হোমস্টে-তে ওঠেন। গত রবিবার রাতে হোম-স্টে চত্বরেই তাঁদের জন্য বারবিকিউ-এর বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, বারবিকিউ বানানোর সময় হঠাৎ আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া ও ঝোড়ো বাতাসে আগুনের তীব্র শিখা মুহূর্তে গায়ে এসে লাগে নিকিতার। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে আংশিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন স্বামী সমীর দাসও।
বর্তমানে শিলিগুড়ির সেবক রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিকিতা। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর হোম-স্টে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্তের স্বামী। তাঁর দাবি, আগুন নেভানোর জন্য হোমস্টে-তে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা জরুরি পরিকাঠামো ছিল না। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে কার্শিয়াং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ও ফায়ার সেফটি নিয়ে এই ঘটনার পর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।