ভোটের পরই তৃণমূলের অন্দরে চরম সংঘাত! কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে সোজা থানার নোটিস

প্রাক্তন বনাম বর্তমানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র চাঞ্চল্য। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র নেতা কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। এনসিপিআই (NCPI) নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কুণালকে সাত দিনের মধ্যে থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তিনি বারাসত থানায় হাজিরা দিতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন এবং রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ বেশ কয়েকজন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। এর পরই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। অভিযোগ ওঠে, দলত্যাগের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার কাকলি দেবী ও তাঁর পরিবারকে উদ্দেশ্যে করে মানহানিকর পোস্ট ও কটূক্তি করা হচ্ছে। এই মর্মে বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে এবং কুণাল ঘোষ নিজে তাঁদের সম্মানহানি করেছেন।
বৈদ্যনাথের সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে কটূক্তি, সম্মানহানি এবং মহিলাকে হেনস্থার মতো একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে বারাসত থানা। তদন্তের অংশ হিসেবেই গতকাল কুণালের কাছে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়। এর আগে এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আইটি সেল ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন হ্যান্ডেল থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের সুনির্দিষ্ট তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে, এই আইনি নোটিসকে কেন্দ্র করে শাসক-শিবিরের অন্দরের কোন্দল এখন আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।