হাতে একে ফোরটি সেভেন নিয়ে সরাসরি জঙ্গলমহলে অভিযান! অসমের ‘লৌহ মানবী’ পেলেন কোবরা বাহিনীর বিরাট দায়িত্ব

দেশজুড়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গি দমন অভিযান এবং গেরিলা যুদ্ধের জন্য পরিচিত সিআরপিএফ-এর এলিট কম্যান্ডো বাহিনী ‘কোবরা’ (CoBRA)-র ইন্সপেক্টর জেনারেল বা আইজি পদে নিযুক্ত হলেন ২০০৬ ব্যাচের অসম-মেঘালয় ক্যাডারের আইপিএস অফিসার সংযুক্তা পরাশর। পেশাদার জীবনে তাঁর আপসহীন মনোভাব ও সাহসিকতার জন্যই তাঁকে অসমের ‘লৌহ মানবী’ বা আয়রন লেডি বলা হয়ে থাকে।
জঙ্গলের গভীরে সশস্ত্র মোকাবিলা এবং নাশকতা দমনের লক্ষ্যেই সিআরপিএফ-এর এই বিশেষ কোবরা বাহিনী প্রশিক্ষিত। অতীতে মাওবাদী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় এই বাহিনীকে মোতায়েন করা হলেও, বর্তমানে মণিপুরের অশান্ত পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্যও কোবরা বাহিনীকে ময়দানে নামানো হয়েছে। আর এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন সময়েই বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এল বড় পরিবর্তন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর মার্কিন বিদেশ নীতি নিয়ে এমফিল ও পিএইচডি করেন সংযুক্তা পরাশর। ২০০৬ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৮৫তম স্থান লাভ করলেও তিনি আইএএস-এর পরিবর্তে আইপিএসকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন।
কেরিয়ারের শুরুতেই অসমের মাকুম এলাকায় অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়ে গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতি সামলান তিনি। পরবর্তীতে সোনিতপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন তাঁর সাহসী ভূমিকা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৫ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, একে-৪৭ রাইফেল হাতে গভীর রাতে সিআরপিএফ ও অসম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড (NDFB)-এর সংবিজিত গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করতে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। জঙ্গলমহলে একাধিক এনকাউন্টার ও জঙ্গি দমনের সফল অভিযানের সুবাদেই তিনি ত্রাস হয়ে ওঠেন অপরাধীদের কাছে।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থায় (NIA) সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। পুলিশ বাহিনীতে মহিলাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে অতীতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘লিঙ্গ কোনও অন্তরায় নয়, এটা শুধু মনের ভিতরের বিষয়।’ মাঠের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সেই মেলবন্ধনেই এবার কোবরা বাহিনীর মতো দুর্ধর্ষ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব এসে পড়ল এই দক্ষ আইপিএস অফিসারের কাঁধে।