ত্রাণের এক প্যাকেট চিড়ে-গুড়ের জন্য জীবনের ঝুঁকি! উত্তাল জলে খুদেদের এই লড়াই দেখলে বুক কেঁপে উঠবে

বিছানা, বালিশ, হাঁড়ি-কড়া—সবকিছুই এখন জলের তলায়। দিন গড়িয়ে সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মালদহের ভুতনি থেকে এখনও জল নামেনি। শহর থেকে বহুদূরে, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন এই জনপদের মানুষ কতটা অসহায়, তার এক মর্মান্তিক চিত্র সামনে এল। বুধবার দুপুরে ত্রাণের সামান্য একটি প্যাকেট পাওয়ার আশায় প্রাণের মায়া ত্যাগ করে ছোট ছোট শিশুদের ডিঙি নিয়ে জলের মধ্যে বেরিয়ে পড়ার দৃশ্য যে কারও বুক কাঁপিয়ে দেবে।
বন্যা কবলিত ভুতনিতে এখন ঘরে ঘরে গলা পর্যন্ত জল। বুধবার দুপুরে যখন খবর আসে যে এলাকায় ত্রাণ এসেছে, তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি তারা। টিনের তৈরি ছোট ডিঙায় চেপে পরিবারের খাবার জোগাড় করতে বেরিয়ে পড়ে কমবয়সী শিশুরা। ঠিকমতো দাঁড় বাইতেও হয়তো শেখেনি তারা, অথচ ছোট ছোট হাতে নৌকা টেনে নিয়ে যাওয়ার সেই লড়াই যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপদের আশঙ্কা ডেকে আনতে পারে। শুধু শিশুরাই নয়, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও জলের মধ্যে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন।
মানিকচকের পর থেকে পুরো এলাকা জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। খবর পৌঁছতেই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নিয়ে ছুটে যান। তবে ত্রাণের পরিমাণ কম থাকায় এদিনও অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যাপ্ত ত্রাণ না মেলায় এবং দুর্গত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছানোর মতো পরিস্থিতি না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রকৃতির চরম মার আর ভুতনির এই করুণ ছবি এখন গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে।