ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে ধাক্কা মেরে নিজেরই বারোটা বাজাল পাকিস্তান! আসলে কী এই রহস্যময় ‘PNS Hunain’?

উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর দুটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংঘটিত এই ঘটনায় পাকিস্তান নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক জাহাজ ‘PNS Hunain (F-273)’ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এবং অপেশাদার উপায়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজের খুব কাছে চলে আসে। ভারতীয় সূত্রের দাবি, পাক জাহাজের এই অনিরাপদ ও হঠকারী ম্যানুভারের ফলেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি নিয়মিত নজরদারি মিশনে নিয়োজিত ছিল। সংঘর্ষের পর ভারতীয় জাহাজের বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে করাচির বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি জাহাজটি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের উসকানিমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এরই প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের এই আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সরাসরি পরিপন্থী। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সামরিক মহড়া বা সেনা চলাচলের ক্ষেত্রে দুই দেশেরই আগাম তথ্য আদানপ্রদান ও সতর্কতা বজায় রাখার কথা।

কী এই ‘PNS Hunain’? পাকিস্তান নৌবাহিনীর এই জাহাজটি মূলত একটি ‘Yarmook-class Batch-II Offshore Patrol Vessel’। রোমানিয়ার ‘Damen Shipyards’-এ তৈরি প্রায় ২ হাজার ৬০০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসেই পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। লম্বায় প্রায় ৯৬ মিটার এবং ঘণ্টায় প্রায় ৪১ থেকে ৪৪ কিলোমিটার বেগে চলা এই জাহাজে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে টহল দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া এতে আধুনিক সারফেস ও এয়ার সার্চ রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং ‘Harbah’ অ্যান্টি-শিপ ও ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল লঞ্চারের মতো মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র মজুত রয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর কমান্ডারদের চরম দক্ষতা ও উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিপত্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উসকানিমূলক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পাকিস্তানকে তাদের সামরিক ইউনিটগুলিকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।