দিঘিতে দেশের বৃহত্তম বন্দর গড়বে মহারাষ্ট্র! ২৭ হাজার কোটির এই মেগা প্রকল্পে মিলবে ৯০ হাজার চাকরি

দিঘি বন্দর নির্মাণ থেকে শুরু করে কৃষক আন্দোলন, মারাঠা সংরক্ষণ এবং ভাষা বিবাদ—রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার, মেরিটাইম বোর্ড এবং মাজাগন ডকইয়ার্ডসের মধ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার জেরে দিঘিতে দেশের অন্যতম বৃহত্তম বন্দর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আনুমানিক ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পে যুদ্ধজাহাজও তৈরি করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ১৫ হাজার এবং পরোক্ষভাবে ৭৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ইন্ডিয়া মেরিটাইম ভিশন’-এর রূপরেখা অনুযায়ী বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ জাহাজ নির্মাণ হচ্ছে মহারাষ্ট্রেই। একবার পুরোদমে কাজ শুরু হলে মাত্র তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্প রূপায়িত হবে। এছাড়া রাজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পর্যালোচনা করে সাধারণ মানুষ আদতে কতটা উপকৃত হচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
চিনিকলগুলির আর্থিক সংকট কাটাতে বড় ঘোষণা করে ফড়নবীশ জানান, সুগার মিলগুলিকে ৭৫০ কোটি টাকার সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে এবং এই ঋণের সমস্ত সুদ বহন করবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি এফআরপি (FRP) পরিশোধের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র যে দেশজুড়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে, তাও এ দিন স্পষ্ট করেন তিনি।
মনোজ জারঙ্গে পাটিলের প্রতিবাদ এবং মারাঠা আন্দোলন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব। প্রতিবাদের জন্য নতুন আবেদনের ভিত্তিতেই নিয়মমাফিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনোভাবেই আপোস করা হবে না। গণেশোৎসবের আবহ ও আদালতের বিচারাধীন বিষয়গুলির কথা মাথায় রেখে আন্দোলনকারীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধারকাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এনডিআরএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সমীক্ষা চালানোর কথা থাকলেও সরকার ততদিন অপেক্ষা করবে না। খরা বা বৃষ্টিপাতের ঘাটতি থাকা জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এবং কৃষকদের কখনোই একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, বহুল আলোচিত দিশা সালিয়ান মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে এবং এফআইআর খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্য করা সম্ভব হবে।