শিমলার কাছেই লুকিয়ে হিমাচলের এই স্বর্গরাজ্য! কোলাহল ছেড়ে ঘুরে আসুন ‘আপেল বাগানের গ্রামে’

পাহাড়প্রেমীদের কাছে গ্রীষ্ম হোক কিংবা শীত, ছুটি পেলেই শিমলা বা মানালির মতো পরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছুটে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে চেনা ছকের ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যারা একটু নির্জনতা এবং আসল প্রকৃতির ছোঁয়া খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এবার এক চমৎকার গন্তব্যের সন্ধান মিলেছে। শিমলা থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ফাগু এমন একটি পাহাড়ি জনপদ, যার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নিমেষেই আপনার মন কেড়ে নেবে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশের পাশাপাশি এই গ্রামটি তার সুবিশাল আপেল বাগানের জন্যও অত্যন্ত পরিচিত।

হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ের কোলে মাথা তুলে থাকা ফাগু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশের এক অপূর্ব মিশ্রণ। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত ভিড় থেকে দূরে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চাইলে এই ছোট্ট গ্রামটি হতে পারে আপনার পরবর্তী ডেস্টিনেশন।

ফাগু কেন বিশেষ?

নির্মল পাহাড়ি বাতাস এবং চোখ জুড়ানো সবুজ দৃশ্যের টানে বহু পর্যটক এখন ফাগুর দিকে ঝুঁকছেন। এই গ্রামের নামের পেছনেও রয়েছে এক বিশেষ কারণ। স্থানীয়দের মতে, বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে, আর সেই কারণেই এর নাম হয়েছে “ফাগু”। সবুজ আপেল বাগান এবং উঁচু পাইন বনে ঘেরা এই গ্রাম শিমলা ও কুফরির ব্যস্ততা থেকে এক সতেজ মুক্তির সুযোগ করে দেয়।

আপেল বাগানের গ্রাম

পুরো হিমাচলের বিভিন্ন প্রান্তে আপেল চাষ হলেও, ফাগু তার সুবিশাল আপেল বাগান এবং ধাপযুক্ত আলু ক্ষেতের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। আপেল গাছের বিশাল বিস্তৃতির কারণে এই অঞ্চলকে প্রায়ই “আপেল বাগানের গ্রাম” বলে অভিহিত করা হয়। বসন্তকালে অর্থাৎ এপ্রিল ও মে মাসে এখানকার বাগানগুলো গোলাপী ও সাদা আপেল ফুলে সেজে ওঠে। অন্যদিকে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে গাছগুলো পাকা লাল আপেলে ভরে ওঠে, যা এক অবিশ্বাস্য ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। এখানে বেড়াতে গেলে পর্যটকেরা সরাসরি বাগানগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী চাষবাসের পদ্ধতি সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন।