অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে বড়সড় বদল আনছে রাজ্য! রোমাঞ্চপ্রেমীদের সুরক্ষায় আসছে কড়া নীতি

পাহাড়ের খাঁজে রোমাঞ্চের হাতছানি, নদীর বুকে রাফটিংয়ের উত্তেজনার পাশাপাশি কঠিন ভূপ্রকৃতিতে পর্বতারোহণের নেশায় বুঁদ থাকে আজকের তরুণ প্রজন্ম। রাজ্যে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের জনপ্রিয়তা দিনদিন যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে বিপদের ঝুঁকিও। অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা সেই অশনিসংকেত দিয়েছে। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার রোমাঞ্চপ্রিয়দের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। খেলাধুলার এই ক্ষেত্রটিকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে নতুন ‘অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পলিসি’ আনতে চলেছে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর।
নতুন এই নীতিতে শুধুমাত্র পরিকাঠামো বা আয়োজনের প্রসারেই নয়, বরং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার দিকটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোন ধরনের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের জন্য কী ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক হবে, আয়োজক ও প্রশিক্ষকদের ঠিক কী দায়িত্ব পালন করতে হবে—এই সমস্ত বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান জানান, রাজ্যে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। খেলাধুলাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই নতুন নীতি আনা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে নিছক বিনোদন বা পর্যটনের গণ্ডি থেকে বের করে একটি সুসংগঠিত ক্রীড়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তবে সেই প্রসারের পথে নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে কখনোই পিছিয়ে রাখা হবে না। সরকারের স্পষ্ট বার্তা—রোমাঞ্চ থাকবে, কিন্তু কোনোভাবেই ঝুঁকি বা অসাবধানতা বরদাস্ত করা হবে না।
পাশাপাশি, রাজ্যের তরুণ সমাজকে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ক্রীড়া দফতর। আগামী ২০২৭ সালের ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডারস ডায়লগ’ বা VBYLD-তে বাংলার যুবসমাজকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে জাতীয় যুব উৎসবের অঙ্গ হিসেবে এই সর্বভারতীয় কর্মসূচি আয়োজিত হতে চলেছে। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীরা ‘মাই ভারত’ পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। কুইজ, প্রবন্ধ লেখা, প্রেজেন্টেশন, কালচারাল ট্র্যাক, ডিজাইন ফর ভারত, হ্যাক ফর সোশ্যাল কজ এবং যুব সংসদের মতো একাধিক বিভাগে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন তাঁরা।
একদিকে রোমাঞ্চের টানে তরুণদের আগ্রহকে সঠিক দিশা দেখানো এবং অন্যদিকে জাতীয় মঞ্চে বাংলার যুবপ্রতিভাকে উজ্জ্বল করে তোলা—এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবার একসঙ্গে এগোচ্ছে রাজ্য।