ফ্রি ইউপিআই লেনদেনের আড়ালেই লুকিয়ে বড় বিপদ? কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তির পর কী সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা!

বর্তমান যুগে কেনাকাটা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন টাকা পাঠাতে ক্যাশ টাকার বদলে ইউপিআই (UPI) লেনদেনই আমজনতার প্রথম পছন্দ। তবে সম্প্রতি এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছে, ইউপিআই দিয়ে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনে গ্রাহক বা ব্যবসায়ীদের থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অতিরিক্ত কোনও টাকা বা চার্জ কাটা যাবে না।

কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে গ্রাহকবান্ধব মনে হলেও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত এবং ২,০০০ টাকার ওপরের লেনদেন ঘিরে বিশেষজ্ঞ মহল থেকে উঠছে চরম উদ্বেগের বার্তা। কেন সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ? কোথায় লুকিয়ে রয়েছে আসল ক্ষতি?

কেন্দ্রের নির্দেশে ঠিক কী বলা হয়েছে? অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোন ব্যাংক বা ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ২০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে অর্থ প্রদানকারী (গ্রাহক) কিংবা অর্থ গ্রহীতা (ব্যবসায়ী)—কারোর ওপরই কোনও প্রকার মাশুল বা চার্জ চাপাতে পারবে না। অর্থাৎ ২,০০০ টাকার কম লেনদেন সম্পূর্ণ ফ্রি থাকবে।

তবে সমস্যা কোথায়? কীভাবে প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর? অর্থনীতি ও পেমেন্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সরকারের এই নির্দেশিকার অন্য পিঠটি বেশ চিন্তার। তাঁদের বক্তব্য:

১. ২,০০০ টাকার ওপর লেনদেনে পরোক্ষ চাপ: কেন্দ্র কেবল ২০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের কথা স্পষ্ট করেছে। এর ওপরে বড় অঙ্কের লেনদেনে ব্যাংক বা পেমেন্ট সংস্থাগুলি যদি ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ (MDR) বা সার্ভিস চার্জ বসায়, তবে ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত খরচ সামলাতে পণ্যের বা সেবার দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। ফলে ঘুরেফিরে চাপটা সাধারণ গ্রাহকের পকেটেই পড়বে।

২. ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব: মাঝারি বা বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে দোকানদারদের ওপর ব্যাংক চার্জ চাপানো হলে তারা ক্যাশ পেমেন্টের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারেন, যা ডিজিটাল লেনদেনের সামগ্রিক গতি থমকে দিতে পারে।

৩. পেমেন্ট পরিকাঠামোর বিকাশ ধাক্কা খাবে: মাশুল না পেলে অনলাইন পেমেন্ট অ্যাপ এবং ব্যাংকগুলি তাদের নিরাপত্তার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নত করতে আর্থিক সঙ্কটে পড়বে, যা প্রকারান্তরে পরিষেবা ও লেনদেনের সুরক্ষায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

সরকার গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার কথা জানালেও, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনে মাশুল ধার্যের জল্পনা এবং তার পরোক্ষ প্রভাব কীভাবে সাধারণ মানুষের বাজেট নষ্ট করতে পারে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে অর্থনৈতিক মহলে।