বাস মালিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠক! রাজ্যজুড়ে কি তবে আকাশছোঁয়া হতে চলেছে বাস ভাড়া?

রাজ্যবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বাসের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অনেক রুটে পর্যাপ্ত বাস মেলে না, আবার ভাড়াও নিয়ে চলে নানা টানাপোড়েন। এই পরিস্থিতিতে বাস মালিকদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাবিদাওয়া সরকারের কাছে পেশ করে আসছে। জ্বালানি তেল ও যন্ত্রপাতির দাম লাগাতার বৃদ্ধির কারণে বাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে বারবার দাবি করেছেন মালিকপক্ষ। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই পরিবহন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ভাড়াবৃদ্ধির বিষয়টি। বৈঠক শেষে পরিবহনমন্ত্রী জানান যে, বাস ভাড়া বাড়ানো নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিচার করে ভাড়া বাড়ানো উচিত বলেও মতপ্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই উঠে এসেছে কঠোর সেবার প্রশ্ন। শুধু একপাক্ষিক ভাড়া বাড়ালে তা মেনে নিতে নারাজ সচেতন নাগরিক সমাজ। এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট নেতা অর্জুন সিং কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের ওপর ভাড়ার বোঝা চাপানোর আগে বাসের পরিষেবা উন্নত করতেই হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, বাসের ভালো স্থিতি, নির্দিষ্ট সময়ে বাস চলাচল এবং কন্ডাক্টর-ড্রাইভারদের ভালো আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন রুটে দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল দশা বাস পরিষেবার। যাত্রীদের অভিযোগ, বহু বাসেই ছাদ চুইয়ে জল পড়ে, সিট ছেঁড়া থাকে এবং সময়মতো পাওয়া যায় না। ফলে ভাড়ার সঙ্গে সেবার মান উন্নত না হলে তীব্র অসন্তোষ ছড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, পুজো মিটতেই এই নতুন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন কীভাবে হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। একদিকে বাস মালিকদের আর্থিক লোকসান বাঁচানোর তাগিদ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের পকেট বাঁচানোর আকুতি—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।