মমতার মোহ ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যাওয়া বিধায়কদের বড় বার্তা কল্যাণের! দরজা কি এখনও খোলা?

সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়া বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একাংশকে দলে ফিরে আসার জন্য সরাসরি আহ্বান জানালেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দলত্যাগী বিধায়কদের জন্য কালীঘাটের দরজা এখনও খোলা রয়েছে। অন্যথায়, ঋতব্রতের হাত ধরে তাঁদের গোটা রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঋতব্রতপন্থী বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের জোরালো আবেদন জানিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে এর আগে একটি চিঠি দিয়েছিল কালীঘাট শিবির। তবে সেই চিঠির প্রেক্ষিতে বিধানসভার স্পিকার কেন এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেননি, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের উদ্দেশে কল্যাণের এই মন্তব্য নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই দশজনের বাইরে যারা রয়েছেন, অর্থাৎ বাকি পঞ্চাশ জন, তাঁদের আমি সামান্য অক্সিজেন দিচ্ছি। পরে হয়তো আর এই সুযোগ দিতে পারব না।” এরপরই তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “ফিরলে আপনারা ফিরে আসুন, না ফিরলে কিন্তু ওই প্রেসিডেন্সির ছেলেটার জন্য আপনাদের সকলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ার চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিন।” পুরোনো স্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কল্যাণ অত্যন্ত আবেদনের সুরে বলেন, “আমাদের সঙ্গে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই আজ আপনাদের একটু অক্সিজেন দিলাম। আপনারা যদি এই সুযোগ নিতে পারেন তবে নিন, না হলে আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা এবং আইনি পদক্ষেপের একটি লম্বা তালিকা। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা লিভ পিটিশনে যাঁদের নাম প্রধানত রাখা হয়েছে, তাঁদের শীর্ষে রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। এরপরের তালিকায় রয়েছেন যথাক্রমে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষ। কল্যাণ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই নির্দিষ্ট দশজন শীর্ষস্থানীয় নেতার বাইরে নব গঠিত শিবিরে থাকা বাকি যে সমস্ত বিধায়করা রয়েছেন, কেবল তাঁদের ক্ষেত্রেই এই ক্ষমার সুযোগ প্রযোজ্য। এখন দেখার বিষয়, এই চরম সতর্কবার্তার পর বিক্ষুব্ধ বিধায়করা কালীঘাটের দিকে ফের পা বাড়ান কি না।