গুরুগ্রামে বাইকচালকে সজোরে ধাক্কা! জিমমালিকের অহংকার চূর্ণ করে গ্রেফতার করল পুলিশ

গুরুগ্রামের ব্যস্ত গলফ কোর্স রোডে বাইকআরোহী এক তরুণীকে সজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হলো অভিযুক্ত গাড়িচালক কল্যাণ বৈঁসলাকে। সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯ নম্বর ধারায় ‘খুনের চেষ্টা’র গুরুতর মামলা যুক্ত করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। ধৃত কল্যাণ পেশায় একজন জিমমালিক এবং তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক স্তরের কবাডি খেলোয়াড় বলে দাবি করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার রোমহর্ষক ও শিহরণ জাগানো ভিডিও ভাইরাল হতেই সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে তদন্তে নামে সেক্টর ৫৬ থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং শক্তপোক্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরই মামলায় খুনের চেষ্টার মতো কড়া ধারা যুক্ত করা হয়, যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ঘটনার পর গুরুগ্রাম পুলিশ কঠোর বার্তা দিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না। অপরাধীদের দমনে প্রশাসন সব সময় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর।
এদিকে, নিজের অপরাধের মাত্রা কমাতে অভিযুক্ত কল্যাণ পুলিশের কাছে দাবি করেছিলেন যে, দুর্ঘটনার সময় তাঁর গাড়িতে তাঁর বোন ও দুই তুতো ভাই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিগৃহীতা বাইকার সিয়া অভিযুক্তের এই সাফাই সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। সিয়ার স্পষ্ট বক্তব্য, গাড়িতে কেবল পুরুষরাই ছিল, সেখানে কোনো মহিলা ছিলেন না। তিনি একটি বাইকার্স ক্যাফেতে যাওয়ার পথে এই হামলার শিকার হন। সৌভাগ্যবশত, এক পরিচিত বাইকারের হেলমেট ক্যামেরায় পুরো ভয়াবহ ঘটনাটি নির্ভুলভাবে রেকর্ড হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক কার্যকলাপে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত অকাট্য প্রমাণের সুবাদে ওই প্রভাবশালী জিমমালিক পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। নিগৃহীতা তরুণী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তায় কাউকে প্রায় মেরেই ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার পরেও অভিযুক্ত ব্যক্তি অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজের সপক্ষে সাফাই গাইছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আইনের দীর্ঘ হাত এবং সিসিটিভি ফুটেজের অকাট্য প্রমাণের মুখে পড়ে রক্ষা পেলেন না অভিযুক্ত।