বৈভবকে বসানোয় বেজায় চটেছেন শ্রীকান্ত! টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে তুলকালাম ক্রিকেট মহলে

মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সিরিজ়েই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সিরিজ় সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। অথচ, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই অপ্রত্যাশিতভাবে ভারতীয় একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয় তাঁকে। আর উদীয়মান এই প্রতিভাকে বসিয়ে রাখার এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। টিম ম্যানেজমেন্টের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ক্রিকেট মহলে এখন শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
আফগানিস্তান সিরিজের দলে সঞ্জু স্যামসনের প্রত্যাবর্তন এবং একাদশে ঈশান কিষাণ ও অভিষেক শর্মার মতো মারকাটার ব্যাটাররা থাকায় ভারতের ওপেনিং কম্বিনেশন সাজানো টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। সবার নজর ছিল এই ম্যাচে কারা ওপেন করতে নামেন। শেষ পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বৈভবকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মার জুটির ওপর ভরসা রাখে। আর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই ফুঁসে ওঠেন শ্রীকান্ত। বৈভবের ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলের দাপুটে পারফরম্যান্সের কথা তুলে ধরে তাঁর স্পষ্ট দাবি, ভারতীয় দলের উচিত তরুণ এই তারকার ওপর আরও বেশি আস্থা রাখা।
বারংবার ওপেনিং পজিশনে রদবদল করলে খেলোয়াড়দের মনে আস্থার ঘাটতি ও সংশয় তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শ্রীকান্ত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান, গত রবিবার সূর্যবংশী খেলেনি দেখে তিনি ও তাঁর স্ত্রী খেলা বন্ধ করে সিনেমা দেখতে শুরু করেছিলেন। এমনকী তাঁর স্ত্রীও প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আগের সিরিজের সেরা খেলোয়াড়কে কেন প্রথম একাদশে রাখা হলো না। শ্রীকান্তের মতে, বৈভবের সঙ্গে এই আচরণ একেবারেই মানানসই নয়। পরের ম্যাচে যদি সে সুযোগ পায়ও, তবে তার মাথায় এটাই ঘুরপাক খাবে যে রান না পেলেই হয়তো তাকে ফের দল থেকে বাদ পড়তে হবে।
শুধু বৈভবই নন, সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গেও দল যেভাবে আচরণ করছে তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই প্রাক্তন নির্বাচক। তাঁর মতে, এই ধরনের অনিশ্চয়তা বৈভব এবং সঞ্জু—উভয় ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের পক্ষেই অত্যন্ত ক্ষতিকর। টিম ম্যানেজমেন্টকে অবিলম্বে এই বিভ্রান্তি দূর করে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শ্রীকান্তের তোপ, টিম ম্যানেজমেন্ট সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে ছেলেখেলা করছে। হয় তাঁকে লম্বা সময় সুযোগ দেওয়া হোক, নতুবা বৈভবের মতো তরুণদের ধারাবাহিকভাবে খেলানো হোক। দল যে ভুলটি বারবার করছে, তা হলো দুই প্রতিভাবান ক্রিকেটারকেই একটি বা দুটি ম্যাচ খেলিয়ে বসিয়ে দেওয়া, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।