মমতার মেগা মাস্টারস্ট্রোকের কাস্টিং ফেল! নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছাড়তে চেয়েও কেন খেল বিরাট ধাক্কা?

আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি অনুযায়ী, বিজেপিকে একজোট হয়ে প্রতিহত করার লক্ষে খাস নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিপি আনন্দ-এর ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’ অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিশেষ রণকৌশলের অংশ হিসেবে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে সরাসরি কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, রেজিনগর আসনে তৃণমূল লড়বে এবং হাই-প্রোফাইল নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি কংগ্রেসের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
তবে তৃণমূলের এই মেগা অফারের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কংগ্রেস শিবিরের তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে তৃণমূল সুপ্রিমো স্বয়ং কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা কেসি বেনুগোপালকে সরাসরি ফোন করেন এবং এই প্রস্তাবের বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চান। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা ও চিন্তাভাবনার পর কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব এবং ভিনরাজ্যের হাইকম্যান্ড শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের এই প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেয়। কংগ্রেসের তরফে সাফ জানানো হয় যে, দলের নিচুতলার কর্মী, প্রদেশ নেতৃত্ব এবং সাধারণ কর্মীরা এই মুহূর্তে তৃণমূলের সঙ্গে কোনো প্রকার জোটে যেতে একেবারেই রাজি নন।
তৃণমূলের অন্দরমহল সূত্রে খবর, কালীঘাটের এই বিশেষ প্রস্তাব যদি কংগ্রেস মেনে নিত, তবে তা বিরোধী জোটের পক্ষে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারত। কিন্তু কংগ্রেসের এমন নেতিবাচক মনোভাবের কারণে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও তৃণমূলের অন্দরমহলে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তাদের মতে, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যখন রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে বিরোধী জোট এগোনোর কথা ভাববে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেসকে আবার এই আঞ্চলিক দলগুলির দ্বারস্থই হতে হবে।
কংগ্রেসের দিক থেকে সবুজ সঙ্কেত না মেলায় শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নিজেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য তাদের প্রার্থী হিসেবে সঞ্চিতা প্রধান দে-র নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিয়েছে। তবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করার পরই স্থানীয় স্তরে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হতে দেখা গেছে। এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর রয়েছে যে, সমস্ত প্রতিকূলতা ও জল্পনা কাটিয়ে সঞ্চিতা প্রধান দে শেষ পর্যন্ত ইভিএমের লড়াইয়ে কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারেন এবং নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।