ছোট মেয়ের আবদারে ৬৫ টাকার পিৎজা কিনতেই চরম বিপদ! দুর্গাপুরের এই ঘটনায় আঁতকে উঠবেন

খাস কলকাতার বহু নামী-দামী রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ভিনজেলার অলিগলি—খাবারের মান নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর এবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও উঠে এল এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ। পিৎজায় ফাঙ্গাস এবং পচা গন্ধ মেলার অভিযোগে বেনাচিতির একটি পরিচিত বেকারির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সাময়িকভাবে ওই দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহের আবহে এমন ঘটনায় খাদ্যপ্রেমী মহলে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের একটি দোকান থেকে ৬৫ টাকা দিয়ে মেয়ের আবদারে একটি পিৎজা কিনেছিলেন এক ব্যক্তি। বাড়ি গিয়ে সেই পিৎজার কিছুটা অংশ তাঁর সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যা খেয়েও ফেলে। এরপর ওই ক্রেতা নিজে পিৎজাটি মুখে দিতেই বুঝতে পারেন যে তা থেকে অত্যন্ত তীব্র ও পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাকি পিৎজা নিয়ে ওই দোকানে ছুটে যান এবং দোকান কর্মীদের সামনেই পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। কর্মীদের একাংশ গন্ধ খতিয়ে দেখে ত্রুটি স্বীকার করলেও প্রশ্ন উঠছে যে, সামান্য সচেতনতার অভাবে ছোট শিশুদের জীবন নিয়ে এহেন ছিনিমিনি খেলার দায় কে নেবে? দোকান কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী unsold বা বিক্রি না হওয়া পণ্য সাধারণত ফেরত চলে যায়, কিন্তু কোনো কারণে এই পিৎজাটি থেকে যাওয়ায় এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ফুড সেফটি উইক বা খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ পালনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাদ্য বিপণন কেন্দ্রে জোরালো অভিযান চালানো হয়েছে। কলকাতার প্রায় ৫৪টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স ইতিমধ্যেই পুরসভা বাতিল করেছে, যেখানে পচা খাবার, ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে রাখা মাংস, এমনকি খাবারে দেওয়ালের রঙ মেশানোর মতো গুরুতর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল খাবার সাময়িকভাবে বমি, ডায়রিয়া বা পেট ব্যথার মতো সমস্যা তৈরি করলেও, দীর্ঘদিন ধরে এগুলি পেটে গেলে তা অঙ্গহানি বা জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।