২০১৮ সালের ভাড়ায় ২০২৬-এ চলা অসম্ভব! বাস ভাড়া কি একধাক্কায় ২০ টাকা হচ্ছে?

দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি থাকলেও, উৎসবের মরশুম মিটলেই বাড়তে চলেছে বাস ভাড়া। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পরিবহণ ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি সরকার। এবার সরাসরি বেসরকারি ও সরকারি বাসের ভাড়া বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। সোমবার তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল এবং দুর্গাপুজোর পরপরই সরকার এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।
সোমবার পরিবহণ দফতরের ময়দান টেন্টে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিবহণ মন্ত্রী এবং দফতরের আধিকারিকদের মুখোমুখি হন ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট’, ‘সিটি সাবআরবান সার্ভিস’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিনিধিরা।
বৈঠক শেষে পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, “আমার মতে বাসের ভাড়া বাড়ানো অনেক আগেই দরকার ছিল। দুর্গাপুজো শেষ হলে আমরা এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। তবে ভাড়া বাড়লে বাস মালিকদেরও যাত্রীদের সুবিধার্থে উন্নত পরিষেবা দিতে হবে। রাস্তায় নতুন ও ভালোভাবে চালিত বাসের পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া সরকারি পরিবহণ সংস্থাগুলিরও আরও আগেই ভাড়া বাড়ানো উচিত ছিল।
অন্যদিকে, বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ২০১৮ সালের নির্ধারিত ভাড়ার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে বাস চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ‘পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিনিধি পি এন বসু বলেন, “ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে, গাড়ির যন্ত্রাংশের দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আকাশছোঁয়া। 현재 স্টেজ ওয়ানের সরকারি ভাড়া ৭ টাকা হলেও চালকেরা বাধ্য হয়ে ১০ টাকা নিচ্ছেন। পরিচালনগত ক্ষতি সামলাতে আমরা প্রথম ধাপেই ২০ টাকা ভাড়ার দাবি জানিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধার কারণে বেসরকারি বাসে যাত্রীসংখ্য়া আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। কোভিড-পূর্ববর্তী সময়ে কলকাতায় প্রায় ৬,০০০ বাস চললেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩,৫০০-এ।
বৈঠকে বাস মালিকদের বকেয়া জরিমানা বা ‘বাহন’ (VAHAN) সংক্রান্ত বিষয়ে এককালীন ছাড় এবং সড়ক টোলের সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী এই সমস্যাগুলি সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস পরিচালকদের জন্য কোনো এককালীন আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা আপাতত মেলেনি। তবে পুজোর পরেই যে বাস ভাড়ার তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।