ইউপিআই ব্যবহারে কি বড় ধাক্কা? ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নিয়ে এল নতুন সরকারি নির্দেশিকা

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি নতুন গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ প্রকাশিত এই নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেন সম্পূর্ণ ফি-মুক্ত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বহাল থাকবে। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে যে, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে কি এবার বাড়তি খরচ বা চার্জ দিতে হবে? এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, অবিলম্বে কোনো নতুন ফি ধার্য করা হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের লেনদেনের ওপর চার্জ বসানোর একটি আইনি পথ তৈরি করে রাখা হয়েছে।
নতুন এই নীতি অনুযায়ী, রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট এবং ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনকে বিশেষভাবে চার্জমুক্ত রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো ব্যাংক বা পেমেন্ট গেটওয়েগুলো এই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে টাকা পাঠানো বা গ্রহণের জন্য কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ফি কাটতে পারবে না। কিন্তু ২০১৯ সালের পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী এতদিন পর্যন্ত সমস্ত ইউপিআই লেনদেনই এই আইনি সুরক্ষার আওতায় ছিল, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের সীমা ছিল না। বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমবারের মতো ২,০০০ টাকার একটি স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে এই সীমার ওপরের লেনদেনগুলো বিশেষ আইনি সুরক্ষার বাইরে চলে গেছে।
তবে সাধারণ গ্রাহকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই, কারণ ৫,০০০ টাকা বা তার বেশি অংকের ইউপিআই পেমেন্ট করলেও এই মুহূর্তে অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো অতিরিক্ত চার্জ কাটা হবে না। যদি ভবিষ্যতে কোনো চার্জ ধার্য করাও হয়, তবে তার সম্পূর্ণ বোঝা সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হবে না। এটি মূলত মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর আকারে বড় ব্যবসায়ী বা দোকানদারদের কাছ থেকে নেওয়া হতে পারে। সরকার জানিয়েছে যে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (P2P) ইউপিআই ট্রান্সফার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অব্যাহত থাকবে। মূলত ইউপিআই পরিকাঠামোর বিশাল খরচ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ফিনটেক সংস্থাগুলিকে আরও উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সহায়তা করতেই এই আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে।