৯৫ লাখের পর্দা থেকে কোটি টাকার স্টাফ ব্লক! দিল্লির ‘শীশমহল’ তদন্তের গোপন খবর ফাঁস হতেই তুলকালাম

দিল্লির বিতর্কিত ‘শীশমহল’ (৬ ফ্ল্যাগ স্টাফ রোড)-এর দুর্নীতি তদন্ত নিয়ে মারাত্মক রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হলো দিল্লি বিধানসভায়। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) অত্যন্ত গোপনীয় কার্যবিবরণী ও পরিদর্শন পরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পিএসি চেয়ারম্যান অজয় মহাওয়ার। গোপন তথ্য ফাঁস করাকে ‘বিশেষাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিধানসভা থেকে পাঠানো নির্দেশের ভিত্তিতে ক্যাগ (CAG) রিপোর্টের আলোকেই পিএসি এই বাংলো দুর্নীতির তদন্ত করছিল। কিন্তু কমিটির নির্ধারিত গোপন সফর ও তদন্তের তথ্য বাইরে চলে আসায় পরিকল্পিত পরিদর্শনই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে পিএসি।

সংবাদের ৩টি মূল পয়েন্ট:

  • বিশেষাধিকার লঙ্ঘন: পিএসি-র গোপনীয় সিদ্ধান্ত বাইরে প্রকাশ করে পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অভিযোগ।

  • তদন্তের সফর বাতিল: সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক দল টেনে আনায় পিএসি-র পূর্বনির্ধারিত বাংলো পরিদর্শন স্থগিত।

  • স্পিকারের কাছে নালিশ: তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ও সংসদীয় ব্যবস্থার আর্জি জানিয়েছেন পিএসি চেয়ারম্যান।

CAG রিপোর্টে উন্মোচিত ৯৫ লাখের পর্দা ও অসংগতির বয়ান

কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ (CAG)-এর রিপোর্টে দিল্লির ৬ ফ্ল্যাগ স্টাফ রোডের সরকারি বাংলো সংস্কার নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। পিএসি চেয়ারম্যান বিষয়টি খতিয়ে দেখার সময় সংবাদমাধ্যমের সামনাসামনি না হওয়ার আইনি বিধিনিষেধও মনে করিয়ে দিয়েছেন।

ক্ষেত্র / বিষয়ক্যাগ (CAG) রিপোর্টে উল্লিখিত গড়মিল
পর্দার খরচপ্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা মূল্যের বিলাসবহুল পর্দা কেনা হয়েছে।
এলাকা সম্প্রসারণক্যাম্প অফিসের জায়গা ৭০০ বর্গমিটার থেকে বাড়িয়ে ২৬০০ বর্গমিটার করা হয়।
দর ও বাজেট বৃদ্ধিএক বছর আগের পুরনো দর দেখিয়ে বাজেট ও এলাকা ৫০% বাড়িয়ে দেওয়া হয়
স্টাফ ব্লক কেলেঙ্কারিকর্মচারীদের ব্লকের জন্য ৯ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হলেও কাজ শেষ হয়নি।

আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

পিএসি চেয়ারম্যান অজয় মহাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, রাজনৈতিক দলগুলো নিশ্চয়ই প্রশ্ন তুলতে পারে, কিন্তু সংবিধান দ্বারা পরিচালিত পিএসি-কে কোনো রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির মধ্যে টেনে আনা অনুচিত। কমিটির অনুমতি ছাড়া তদন্ত চলাকালীন মাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। এই ঘটনাটির বিরুদ্ধে তারা আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন এবং বিধানসভার স্পিকারের কাছে ইতিমধ্যেই বিশেষাধিকার ভঙ্গ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া আবেদন পেশ করা হয়েছে।