আদানির ঝটকাতেই কি অন্ধকারে ডুবল বাংলাদেশ? মোদীর দেশের বিদ্যুৎ পেতেই বড় স্বস্তি!

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঙ্কট বর্তমানে এক জটিল ও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি প্রধান ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহে এক বিরাট ধস নামে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল যে, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াট হলেও, বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যার জেরে এর একটি ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট হঠাৎ বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বাংলাদেশ জুড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যদিও তিন দিন পর ওই ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় এবং বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে তা সংযুক্ত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

বাংলাদেশ সাধারণত ভারত থেকে প্রায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে থাকে, যার একটি বিশাল অংশ অর্থাৎ প্রায় ১,৪৯৬ মেগাওয়াট আসে কেবল এই আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্র থেকেই। স্বাভাবিকভাবেই গোড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছিল। এর পাশাপাশি দেশে গ্যাসের তীব্র ঘাটতি, কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলির কারিগরি সমস্যা এবং নেপালে আকস্মিক বন্যার জেরে সে দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। ৩০,০০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের অভাবে দেশের বিভিন্ন গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলিতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়, ফলে চাহিদার তুলনায় জোগান ছিল অপ্রতুল। সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই শপিং মল ও বাজারগুলি রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার মতো কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি ফের চালু হয়ে যাওয়ায় এবং গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়ে ১,০৪৬ মেগাওয়াটে পৌঁছানোয় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার পথে।