এআই-কে না থামালে ধ্বংস হবে মানবজাতি! প্রাক্তনী জ্যাকব কক্সনের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় টেক ওয়ার্ল্ড!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক (Anthropic)-এর প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সন ফের মানবজাতিকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, যদি এআই ডেভেলপমেন্টের গতি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে মানুষের অস্তিত্ব এক মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি অ্যানথ্রপিকের বর্তমান সিইও দারিও আমোডের সেই দাবিকে জোরালো সমর্থন করেছেন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির গতি ধীর করার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল।

সাধারণত কোনো এআই সিস্টেমে বড় ধরনের গোলযোগ দেখা দিলে তা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করার জন্য ‘কিল সুইচ’ (Kill Switch)-এর ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে যেকোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। তবে কক্সন এই কিল সুইচের কার্যকারিতা নিয়ে অত্যন্ত ভয়ংকর এক আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে ছোট বা মাঝারি ডেটা সেন্টারে কিল সুইচ কার্যকর হলেও, ভবিষ্যতে এআই-এর পরিধি যেভাবে বাড়ছে তাতে এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলোর বিশাল আকার এবং এর বহুমুখী পরিকাঠামোর কারণে একটিমাত্র সুইচে কাজ না-ও হতে পারে।

কক্সন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত এআই কোনো নির্দিষ্ট ভৌত সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যখন এআই স্প্যাম পুরো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাকিংয়ের মতো কার্যক্রম শুরু করে দেবে। তখন আর কোনো কিল সুইচই কাজ করবে না। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সমস্ত টেক জায়ান্ট ও এআই ল্যাবগুলোকে নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং একটি সুনির্দিষ্ট নৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে বর্তমান ল্যাবগুলোর পরিচালকরা সততার সঙ্গেই কাজ করতে চান এবং তারাও ভেতরে ভেতরে এই নিয়ন্ত্রণহীন গতির পরিণতি নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত।

এর আগেও গত ৯ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বের টুইটার) একগুচ্ছ পোস্টে কক্সন সতর্ক করে লিখেছিলেন যে ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ বা অতি-বুদ্ধিমান সিস্টেম তৈরি করা মানবজাতির জন্য এক বাস্তব এবং বিরাট বিপদ। এই প্রযুক্তির অপরিসীম ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। খুব শীঘ্রই এমন সব সুপারহিউম্যান এআই সিস্টেম আসছে যা নিমেষে যেকোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ফেলতে পারে এবং রাতারাতি পুরো দুনিয়া বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে এআই নির্মাতারা নিজেরাই বিশ্বাস করেন যে চলতি দশকের শেষ হওয়ার আগেই এই প্রযুক্তি মানবসভ্যতার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটি কোনো সস্তা মার্কেটিং কৌশল নয়, বরং অনেক শীর্ষস্থানীয় এক্সিকিউটিভ ও গবেষক পর্দার আড়ালে এই চরম আশঙ্কাই প্রকাশ করে থাকেন।

কক্সনের এই চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তার পর টেক দুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে বিতর্ক। ওপেনএআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান, টেসলার কর্ণধার এলন মাস্ক এবং গুগলের দেমিস হাসাবিসও এআই উন্নয়নের গতি মন্থর করার পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা এআই সিস্টেমে এম্বেডেড ইভ্যালুয়েটর যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বের এই শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বরা একবাকл স্বীকার করেছেন যে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরন্তর অগ্রগতির পথে মানবজাতির অস্তিত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।