“জলে ভাসছিল শুধু একপাটি চটি!”-ভূতনির বন্যায় শিশু মৃত্যু, হাউহাউ করে কেঁদে উঠল পরিবার

মালদার ভূতনি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার বিকেলে জমা জলে ডুবে সামিউর রহমান (৫) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই নিয়ে ভূতনিতে বন্যার জলে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হল ৩। মৃত শিশুটি উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সামিরুদ্দিনটোলার বাসিন্দা। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির ছাদ থেকে কোনোভাবে নিচে নেমে পড়ে শিশুটি। বাড়ির সামনের জমা জলে পড়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ তার কোনো খোঁজ মেলেনি। এরপর পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে তারা জলের ওপর একপাটি চটি ভাসতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গেই জলে নেমে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং খবর দেওয়া হয় সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পাঁচ বছরের এই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা সামিরুদ্দিনটোলা জুড়ে শোকের মাতম চলছে। বন্যার জলে ঘরবাড়ি ও চারপাশ প্লাবিত হয়ে থাকায় এলাকার শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার জমা জলে ডুবে এই উত্তর চণ্ডীপুরেরই নাজিরুদ্দিন টোলা গ্রামে অনিকুল হক (১৭) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বন্যার জলে সম্পূর্ণ প্লাবিত থাকায় রাস্তার পাশের একটি গভীর গর্ত বুঝতে না পেরে সেটিতে পড়ে যায় ওই কিশোর। সেই সময় আশেপাশে কেউ না থাকায় তাকে সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও তার আগে নৌকা উল্টে এক কৃষকেরও মৃত্যু হয়েছিল। সব মিলিয়ে লাগাতার বন্যা পরিস্থিতির জেরে মালদার ভূতনিতে এখনও পর্যন্ত মোট ৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।