দীঘার কাছেই আছড়ে পড়ছে ডিফেন্স মেগাপ্রজেক্ট! বাংলার মাটিতে তৈরি হচ্ছে দেশের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র

বাঙালির মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে আরও এক নতুন প্রতিরক্ষা গৌরব। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী এলাকা জুনপুটে ডিআরডিও (DRDO)-র উদ্যোগে গড়ে উঠতে চলেছে একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র। রাজ্য সরকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় দেশের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে বাংলার গুরুত্ব এক লাফে বহু গুণ বেড়ে গেল।

সূত্রের খবর, বঙ্গোপসাগরের তীরে ওড়িশার চণ্ডীপুর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জুনপুট এলাকা। পর্যটন কেন্দ্র দীঘা থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে। ওড়িশার চণ্ডীপুরের ওপর এতদিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার যে বাড়তি চাপ থাকত, জুনপুটের নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে তা অনেকাংশেই কমে যাবে। দুটি পরীক্ষাকেন্দ্র একসঙ্গে কাজ করলে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং বিভিন্ন উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পরিকাঠামো আরও অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রসারিত হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন প্রশাসনের জমানায় ডিআরডিও এই প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় তা দীর্ঘদিন আটকে ছিল। তবে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক সবুজ সঙ্কেতের পর সেই সমস্ত জট কাটিয়ে অবশেষে কাজের গতি ফিরেছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মেগাপ্রজেক্টের কথা ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন যে, জুনপুটের এই প্রতিরক্ষা প্রকল্প একদিকে যেমন দেশের সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করবে, তেমনই বাংলার অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে গবেষণা ও পরীক্ষণ পরিকাঠামো সম্প্রসারণের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলেও এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাংলা।