তেল বেচত খোদ তেল বিক্রেতার কাছেই! ভারতকে জ্বালানি তেল দিতে হচ্ছে যুদ্ধের মুখে পড়া রাশিয়াকে?

সময় কীভাবে পরিস্থিতি বদলে দেয়, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ভারত ও রাশিয়ার বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক। একসময় রাশিয়া থেকে ভারত তার মোট আমদানির মাত্র ২ শতাংশ তেল কিনত, কিন্তু ২০২২ সালের পর সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং রাশিয়া ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারীতে পরিণত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের জেরে পরিস্থিতি উল্টে গেছে। ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার বা রিফাইনারি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে মারাত্মক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে রাশিয়াকে এখন ভারতের কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ পেট্রল ও ডিজেল আমদানি করতে হচ্ছে, যা দেখে গোটা বিশ্ব রীতিমতো অবাক হয়ে গেছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন एनर्जी অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর সাম্প্রতিক মাসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত অগাস্ট মাসে রাশিয়া রেকর্ড ১.৭২ লক্ষ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই সরবরাহ করেছে ভারত। ভারত একা আগস্ট মাসে রাশিয়াকে ১.২০ लाख টন পেট্রল রপ্তানি করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ ইউরো। বিশেষ বিষয় হলো, ভারত থেকে পাঠানো এই তেল গুজরাটের ভাদিনার রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়েছে, যার আংশিক মালিকানা রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি রোসনেফটের হাতে রয়েছে। অর্থাৎ, রাশিয়া নিজেই কাঁচামাল ভারতকে দিয়ে তেল পরিশোধন করিয়ে তা চড়া দামে বা প্রয়োজনে নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনছে।
সিআরইএ (CREA)-এর রিপোর্ট প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, এই পেট্রোলবাহী ট্যাংকারগুলি মিসরের উপকূলের কাছাকাছি এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তরিত হয়ে রাশিয়ার বেলোয়ে মোরে বন্দরে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের লাগাতার বিমান ও ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক বন্দর ‘তুপসে’-তে গত তিন মাস ধরে একটিও তেলবাহী জাহাজ ছাড়তে পারেনি। একসময়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া আজ ইউক্রেনীয় যুদ্ধের জেরে ঘরের চাহিদা মেটাতে ভারত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া এবং মিশরের মতো দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বর্তমান এই অপ্রত্যাশিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।