ভারতের জ্বালানি সঙ্কটের বড় সমাধান কোন পথে? মুখ খুললেন খোদ ইরানের প্রেসিডেন্ট!

ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালী কবে এবং কীভাবে খুলবে, তা নিয়ে বড়সড় মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের ফরেন অ্যাফেয়ার্স এডিটর গীতা মোহনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও নীতির ভিত্তিতেই এই জলপথ খোলার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এর জন্য সবার আগে আমেরিকাকে তাদের নাকাবন্দি এবং শত্রুতামূলক কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে বলে সাফ শর্ত দিয়েছেন তিনি।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ভারতের মতো দেশগুলোর জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে পেজেশকিয়ান জানান, এই জলপথ স্বাভাবিক করার জন্য বর্তমানে ওমানের সঙ্গে একটি বিশেষ সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে। খুব শীঘ্রই আরব দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীরাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন। ওই আলোচনায় কোনও সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হলে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বা আইএমও-র পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
তবে এই জলপথের জট কাটার প্রধান বাধা হিসেবে আমেরিকার কঠোর নীতিকেই দায়ী করেছে তেহরান। পেজেশকিয়ানের মতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে না নেয়, তবে পরিস্থিতি বদলানো কঠিন। সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ফেলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমেরিকা সামরিকভাবে না পেরে এখন পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার জন্য ইরান বা হিজবুল্লাহকে দায়ী না করে তিনি উল্টে আমেরিকার আগ্রাসী নীতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলো সচল রাখতে ব্রিকস-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোকে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করছে তেহরান। ওমান ও আরব দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান মিলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।