আইফোন ১৮ প্রো কিনতে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ কি বোকামি? আসল সত্যিটা জানুন!

অ্যাপল বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন আইফোন ১৮ প্রো। তবে গত বছরের আইফোন ১৭ প্রো মডেলের তুলনায় নতুন এই ফোনটির দাম প্রায় ৩০,০০০ টাকা বেশি হওয়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা। নতুন মডেলে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী এ২০ প্রো চিপসেট, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচারযুক্ত ক্যামেরা। অন্যদিকে, ফোন দুটির ডিজাইন, ডিসপ্লে এবং মূল রেজোলিউশনে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত টাকা খরচ করে নতুন মডেলি কেনা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত, নাকি পুরোনো মডেল বা আগের অভিজ্ঞতা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

দামে বড় ফারাক ও স্টোরেজ অপশন ভারতের বাজারে আইফোন ১৮ প্রো-এর ২৫৬ জিবি বেস ভ্যারিয়েন্টের প্রাথমিক দাম রাখা হয়েছে ১,৬৪,৯০০ টাকা। তুলনামূলকভাবে গত বছরের আইফোন ১৭ প্রো-এর প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ১,৩৪,৯০০ টাকা। এছাড়া আইফোন ১৮ প্রো-এর ৫১২ জিবি মডেলের দাম ১,৮৯,৯০০ টাকা, ১ টিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ২,৩৯,৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ টিবি স্টোরেজ মডেলটির দাম পড়বে ৩,১৪,৯০০ টাকা। উল্লেখ্য, অ্যাপল ইতিমধ্যেই আইফোন ১৭ প্রো সিরিজটি অফিশিয়াল সাইট থেকে তুলে নেওয়ায় এটি নতুন কেনা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টআইফোন ১৮ প্রো সিরিজআইফোন ১৭ প্রো সিরিজ
২৫৬ জিবি১,৬৪,৯০০ টাকা১,৩৪,৯০০ টাকা
৫১২ জিবি১,৮৯,৯০০ টাকা১,৫৪,৯০০ টাকা
১ টিবি২,৩৯,৯০০ টাকা১,৭৪,৯০০ টাকা
২ টিবি৩,১৪,৯০০ টাকাউপলব্ধ নয়

ডিজাইন ও ডিসপ্লেতে মিল কতখানি? বাইরের দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো-এর ডিজাইন এর পূর্বসূরী অর্থাৎ ১৭ প্রো-এর মতোই। উভয় ফোনেই রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর প্রোমোশন ডিসপ্লে। তবে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো, নতুন মডেলের ডাইনামিক আইল্যান্ডটি আগের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ সরু বা পাতলা করা হয়েছে, যা কিছুটা বেশি স্ক্রিন স্পেস দেয়। এছাড়া স্ক্রিনের রেজোলিউশন, পিপিআই বা কালার কোয়ালিটি একই রাখা হয়েছে। নতুন এই ফোনটি বারগান্ডি, গ্লেসিয়ার, ব্ল্যাক এবং সিলভার—এই চারটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ওজন সামান্য বেড়ে আইফোন ১৮ প্রো-এর ওজন হয়েছে ২১১ গ্রাম, যেখানে ১৭ প্রো ছিল ২০৬ গ্রাম।

পারফরম্যান্স এবং ব্যাটারি লাইফ অভ্যন্তরীণ পারফরম্যান্সের দিক থেকে নতুন আইফোন ১৮ প্রো-তে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক এ২০ প্রো চিপসেট, যা ১৭ প্রো-এর এ১৯ প্রো চিপের চেয়ে অনেকটাই শক্তিশালী। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন চিপ দৈনন্দিন ব্যবহারে ২০ শতাংশ এবং এআই, গেমিং কিংবা ফটো এডিটিংয়ের মতো ভারী কাজের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত গতি ও গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। পাশাপাশি, ব্যাটারির ক্ষেত্রেও বড় উন্নতি এনে আইফোন ১৮ প্রো-তে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।