উপনির্বাচনের আগে ঘাসফুল শিবিরে বড় ভাঙন! টিএমসির দখল নিয়ে সোজা নির্বাচন কমিশনে মমতা বনাম ঋতব্রত

আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই। দলের সংগঠন এবং বহুচর্চিত নির্বাচনী প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উভয় গোষ্ঠীই। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন বৈঠকে দুই পক্ষই নিজ নিজ স্বপক্ষে আইনি যুক্তি ও নথিপত্র পেশ করেছে।

বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল—যাঁদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে ও আইনজীবী অভিনব সিং—কমিশনের সামনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে দলে কোনো সাংগঠনিক বিরোধ নেই। তাঁরা যুক্তি দেখান যে বিরোধী দাবিদাররা মাত্র পাঁচ মাস আগেই টিএমসির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন এবং দলীয় তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্যও পেয়েছেন। অভিষেক বা দলীয় ফোরামে নিয়মিত সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথাও কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। মমতা শিবিরের পক্ষ থেকে এই বিরোধকে সোজাসাপ্টাভাবে “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বনাম একদল বিশ্বাসঘাতকের লড়াই” বলে অভিহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীও কমিশনের সামনে নিজেদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। বৈঠক শেষে ঋতব্রত দাবি করেন যে তাঁরা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্যাদি জমা দিয়েছেন। আসন্ন উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বরের আগেই যাতে নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য বিশেষ আর্জি জানিয়েছে তাঁর শিবির। একইসঙ্গে, জোড়াফুল প্রতীক তাঁদের পক্ষেই আসবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন ঋতব্রত।

তবে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মমতা শিবিরের প্রতিনিধি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। সবমিলিয়ে, ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন এই সংক্রান্ত কোনো যুগান্তকারী নির্দেশিকা জারি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।