ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মুখে বাংলার ফুচকার জয়ধ্বনি! চন্দননগরের স্ট্র্যান্ড রোডে হঠাৎ কী এমন ঘটল?

ফরাসি আমলের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি বিল্ডিং, মিউজিয়াম, ক্লক টাওয়ার, ডুপ্লে কলেজ থেকে শুরু করে প্রাচীন চার্চ—নানা স্থাপত্যের সমাহারে সমৃদ্ধ চন্দননগর স্ট্র্যান্ড রোড। দীর্ঘদিনের এই ফরাসি স্থাপত্যগুলির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা চন্দননগর। এই ঐতিহাসিক আবহে চন্দননগরে পা রেখে রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন ভারতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত থিয়েরি ম্যাথু। ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউটের মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রদূত থিয়েরি ম্যাথু অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, আগামী দিনে চন্দননগরে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একটি জমকালো উৎসবের আয়োজন করা হবে। আর এই ঘোষণার পরেই উৎসবের মেজাজে পুরোপুরি গা ভাসাতে দেখা যায় খোদ ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে।

সংস্কারের এই সূচনা উপলক্ষে চন্দননগর স্ট্র্যান্ড রোডে স্থানীয় মিষ্টি, সুস্বাদু আইসক্রিম এবং জিভে জল আনা ফুচকা সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল বসানো হয়েছিল। ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট থেকে বেরিয়েই সাধারণ মানুষের উৎসাহ দেখে লোভ সামলাতে পারেননি রাষ্ট্রদূত ম্যাথু। উপস্থিত রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ তাঁকে একটি সুস্বাদু ফুচকা খাওয়ার জন্য সানুনয় আমন্ত্রণ জানান। তাঁদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রাস্তাঘাটেই টক-ঝাল স্বাদের দুটি ফুচকা মুখে তোলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। ফুচকা খাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি বলেন, “খুব সুন্দর এবং সুস্বাদু করে বানানো হয়েছে এটি।” রাষ্ট্রদূতের এমন সহজ-সরল ও মাটির কাছাকাছি আসার দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং ফ্রান্সের প্রতিনিধিদল সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে এই দারুণ মুহূর্তের দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকদের মতে, ফরাসি রাষ্ট্রদূতের এই মাটির টানে মিশে যাওয়ার দৃশ্য চন্দননগরের সঙ্গে ফ্রান্সের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আবারও নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছে। শুধু খাওয়াদাওয়া বা আনন্দই নয়, এদিনের অনুষ্ঠানে চন্দননগরকে কেন্দ্র করে উন্নত পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা, জলপথে পর্যটনের প্রসার ঘটানো এবং ভবিষ্যতে ফরাসি বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।