উত্তরপ্রদেশে নিষাদ নেতার নৃশংস খুন! সমবেদনা জানাতে গিয়েও কেন পুলিশের খাঁচায় অজয় রায়?

উত্তরপ্রদেশের গোণ্ডা জেলার পারসাপুর থানা এলাকার রেক্সদিয়া গ্রামের বিশিষ্ট বাসন ব্যবসায়ী তথা নিষাদ সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতা বিনোদ কুমার সাহনিকে ঘিরে চলা হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ও চরম অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই নিষাদ সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। নিহত নেতার grieving পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এবং সমবেদনা জানাতে যাওয়ার পথে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় দলীয় নেতাকে পুলিশ কর্তৃক আটক করার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অজয় রায়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিনোদ কুমার সাহনির পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গোণ্ডার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু বারাবাঁকির কাছে মাসাউলি টোল প্লাজায় পৌঁছানোমাত্রই বিশাল পুলিশ বাহিনী তাঁদের পথ আটকে দেয়। পুলিশ বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অজয় রায় এবং সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়েন। জানা গেছে, ওই প্রতিনিধিদলে অজয় রায় ছাড়াও দলের জাতীয় মুখপাত্র অখিলেশ প্রতাপ সিং, বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা অসীম ওয়াকার ও নরেন্দ্র সিং এবং অসংখ্য দলীয় কর্মী উপস্থিত ছিলেন। গোণ্ডা যাওয়ার ব্যাপারে কংগ্রেস নেতারা সম্পূর্ণ অনড় থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের জোরপূর্বক আটকে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতৃত্ব সরাসরি উত্তর প্রদেশ সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অজয় রায় ও তাঁর অনুগামীদের আটক করে নিকটস্থ মাসাউলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিনোদ কুমার সাহনির এই রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এর আগে গত শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ডঃ সঞ্জয় নিষাদ গোন্ডায় সরাসরি প্রতিবাদে বসেছিলেন, অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) অনগ্রসর শ্রেণীর রাজ্য সভাপতি ডঃ রাজপাল কাশ্যপসহ বেশ কয়েকজন এসপি নেতাকেও পুলিশ আটক করে। গত বৃহস্পতিবার লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বিনোদ কুমার সাহনির মৃত্যু হয়। পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘন ঘন বিতর্কিত পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, গত বুধবার গভীর রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে ওই বিরোধের জেরে মূল অভিযুক্ত শুভম সিং ওরফে গোলু তার দলবল নিয়ে বিনোদ কুমারের ওপর মারাত্মক হামলা চালায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে, সমাজবাদী পার্টির (এসপি) বিধায়ক রবিদাস মেহরোত্রা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলে এই হত্যাকাণ্ডের একটি উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস রাজ্য সভাপতির গোণ্ডা সফরকে কেন্দ্র করে গোণ্ডা জেলাজুড়ে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোণ্ডা-কর্ণাইলগঞ্জ-পরাশপুর সড়কটি সম্পূর্ণভাবে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। অজয় রায়ের পূর্বনির্ধারিত সফরের আগেই রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যোগদানে সম্পূর্ণ বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাকস্বাধীনতার অধিকার নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।