পাকিস্তানে ১০ দিনে ৬ হিন্দু নাবালিকাকে ইসলামে ধর্মান্তরিত, হু হু করে বাড়ছে সংখ্যালঘু নির্যাতন!

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার ও জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে প্রকাশ্যে এসেছে যে, সিন্ধ প্রদেশের তান্ডো আল্লায়ারে দুই নাবালিকা হিন্দু বোনকে অপহরণের পর জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে মুসলিম যুবকদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুল আবেদন জানালেও আদালত তাদের বাড়ি পাঠাতে অস্বীকার করে সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কী ঘটেছিল আদালতে? সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, তান্ডো আল্লায়ারের আদালতের বাইরে ১৩ ও ১৪ বছরের দুই হিন্দু নাবালিকা বোন এবং তাঁদের বাবা-মাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, করাচির ইব্রাহিম কলোনির কোলহি সম্প্রদায়ের সীতা ও রুপি নামের ওই দুই বোনকে সম্প্রতি একদল দুষ্কৃতী অপহরণ করে। এরপর তাঁদের জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিয়ে আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গি নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। আমেরিকার সিন্ধি মানবাধিকার সংগঠন ‘সিন্ধ রেনেসাঁ’-র রিপোর্টে এই নৃশংস ঘটনার কথা সামনে এসেছে। আইনি লড়াই ও মামলার শুনানির সময় মেয়েদুটি বাড়িতে ফেরার আকুতি জানালেও আদালত তাদের হোমে পাঠিয়ে দেয়। পাকিস্তানি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ভিঙ্গাস এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনার ঠিক একদিন পরেই তান্ডো আল্লায়ার থেকে পানসি কোলহি নামের আরও এক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে।

অ্যামনেস্টির রিপোর্ট ও মানবাধিকার কর্মীদের ক্ষোভ পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হিন্দুর বসবাস। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশন্যালের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এখানকার দরিদ্র ও প্রান্তিক হিন্দু জনগোষ্ঠীর তরুণী ও মেয়েদের জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মুসলিম যুবকদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু ধর্মান্তরকরণই নয়, পাশাপাশি মন্দির ভাঙচুর, দোকানপাট লুট এবং ধর্মীয় অবমাননার কাল্পনিক আইনের অপব্যবহার করে হিন্দুদের ওপর লাগাতার নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এই ধারাবাহিক নিপীড়নের প্রতিবাদে পাক সমাজকর্মী সোরাথ সিন্ধু সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সিন্ধিরা তাঁদের মাতৃভূমি ছাড়তে চান না বলেই কি এমন পরিকল্পিত অত্যাচার চলছে? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি বারবার সরব হলেও পাকিস্তানের স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার এই ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।