পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ধাওয়া! বাঁকুড়ায় ১২টি গরু সমেত লরি ধরে ফেললেন প্রাক্তন সেনাকর্মী বিজেপি নেতা

রাজ্যজুড়ে সরকারি নির্দেশে গরুর হাট ও কেনাবেচা বন্ধ থাকার পরেও গোপনে রমরমিয়ে চলছে গরু পাচার। আর এই পাচার রুখতেই একেবারে ফিল্মি কায়দায় আসরে নামলেন বাঁকুড়ার কোতুলপুরের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তথা প্রাক্তন সেনাকর্মী কেশবী নাগা। তাঁর এই সাহসিকতা ও চতুর পদক্ষেপে বমাল সমেত পাকড়াও হয়েছে মোট ছয়জন গরু পাচারকারী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা বাঁকুড়া জেলা জুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে এবং পুলিশ প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে।

জানা গিয়েছে, কোতুলপুর থানার দেশড়া কোয়ালপাড়া অঞ্চলের পুয়োলগেড়ে গ্রাম থেকে গত কয়েকদিন ধরে গোপনে গরু পাচারের চাঞ্চল্যকর খবর আসছিল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কাছে। গতকাল রাতেও ঠিক একই কায়দায় একটি লরিতে করে ১২টি গরু চাপিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল পাচারকারীরা। গোপন সূত্রে সেই খবর পাওয়ামাত্রই কোতুলপুর থানাকে গোটা বিষয়টি তৎক্ষণাৎ জানান বিজেপির মণ্ডল সভাপতি কেশবী নাগা। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাচারকারীরা ১২টি গরু বোঝাই লরিটি নিয়ে গ্রাম থেকে চম্পট দেয়।

পুলিশের ওপর ভরসা না রেখে নিজেই ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নেন প্রাক্তন সেনাকর্মী কেশবী নাগা। তিনি দলের কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বুলেট বাইকে চড়ে লরিটির সন্ধান শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ অন্ধকারের মধ্যে ধাওয়া করার পর তাঁরা দেখতে পান যে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে ওই লরিটি ছুটে আসছে। গরু বোঝাই লরিটিকে চোখের সামনে পালিয়ে যেতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে সিনেমার কায়দায় রাস্তায় নিজের বুলেট বাইকটি সোজা আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে দেন বিজেপি নেতা। বাইকের সামনে বাধা পেয়ে লরির চালক বাধ্য হয়ে গাড়ি থামায়। লরিটি থামামাত্রই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে লরির চালক, খালাসি সহ আরও কয়েকজন গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পিছু হঠেননি কেশবী নাগা। অন্ধকারে ধাওয়া করে তিনি নিজে হাতে দুই পাচারকারীকে জাপটে ধরে ফেলে আটকে রাখেন।

এরপর অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ওই বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নিজে লরি চালিয়ে এবং দুই পাচারকারীকে সঙ্গে নিয়ে কোতুলপুর থানায় এসে হাজির হন। তিনি লরিটি পুলিশের হেফাজতে দেওয়ার পাশাপাশি ধৃত পাচারকারীদেরও পুলিশের হাতে সঁপে দেন। এখানেই শেষ নয়, নাটকীয়ভাবে কোতুলপুরের নেতাজী মোড় এলাকায় ফের অভিযান চালিয়ে লরি থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও চার পাচারকারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন কেশবী নাগা। তাদেরও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ এই ঘটনায় লরির চালক, খালাসি ও পাচারকারী সহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত এক পাচারকারী মহম্মদ কারিমুল্লা জানিয়েছে যে এই গরুগুলিকে কলকাতার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনার পর এলাকায় বিজেপির এই নেতার সাহসিকতার প্রশংসা শুরু হয়েছে।