বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর জের! গভীর রাতে বাড়ি থেকে কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করায় তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থানায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও বিতর্কিত ধর্মীয় প্রচারক বা সংক্ষেপে তথাকথিত সাধু-বাবা বা বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়ানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবশেষে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশের পরেই দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গভীর রাতে তাঁর টালিগঞ্জের বাসভবন থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারি এবং পুলিশি পদক্ষেপের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শাসক শিবিরের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ময়দানে নেমেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত এক বিতর্কিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বাংলায় এসে বঙ্গবাসী তথা বাঙালিদের নিয়ে কিছু আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবিতে গত মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভবানীপুর থানার সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। এই বিক্ষোভ চলাকালীন ওই প্রচারকের ছবি পুড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেন কংগ্রেস কর্মীরা। এই ঘটনার পরেই প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই গতকাল গভীর রাতে পুলিশ দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে তাঁর টালিগঞ্জ এলাকার বাড়ি থেকে তুলে সোজা ভবানীপুর থানায় নিয়ে আসে। জানা গিয়েছে, ধৃত নেতার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজই তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। এই বিক্ষোভে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের সন্ধানেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

এই গ্রেপ্তারির পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে কথার লড়াই। প্রদেশ কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকার এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলার মানুষ অন্যায় বা প্রতিবাদের ভাষা ভুলে যায়নি। অতনুকে গ্রেপ্তার করে সরকার সেটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যারা ভণ্ডামি করতে বাংলায় আসে, তাদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস পথেই থাকবে এবং প্রয়োজনে জেলের তালা ভেঙেও প্রতিবাদ জারি রাখা হবে দেখি প্রশাসন কতজনকে জেলে ভরতে পারে। পালটা আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন যে, রাজ্যে মাত্র নামমাত্র ভোট পাওয়া দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই এসব সস্তা চমক ও বড় বড় ডায়লগবাজি করে থাকে। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন রাজনীতি না করে কংগ্রেসের উচিত উত্তরপ্রদেশে গিয়ে আন্দোলন করা, কারণ এভাবেই চলতে থাকলে একসময় তারা শূন্য থেকে মহাশূন্যে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে।