মুহূর্তের ভুলে সপরিবারে খালের জলে ড্রাইভ! নিউ টাউনে গাড়ি উল্টে যাওয়ায় যা ঘটল, জানলে শিউরে উঠবেন

চলন্ত গাড়ির মধ্যে ছোট শিশুর একটি ছোট্ট দুষ্টুমি কিংবা সামান্য অসাবধানতা কতটা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃশ্য সম্প্রতি চোখের সামনে দেখল তিলোত্তমার উপনগরী নিউ টাউন। যাত্রাগাছি এলাকায় সপরিবারে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই এক অভাবনীয় বিপদের মুখে পড়েন এক দম্পতি। সঙ্গে ছিল তাঁদের অবুঝ শিশুকন্যাও। মুহূর্তের অসতর্কতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সোজা বাগজোলা খালে গিয়ে উল্টে পড়ে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমাহীন সাহসিকতা এবং চরম তৎপরতার কারণে এ যাত্রায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ওই তিনজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার দিন ওই দম্পতি তাঁদের একমাত্র শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে নিজস্ব গাড়িতে কোথাও যাচ্ছিলেন। গাড়ির সামনের সিটে মায়ের কোলেই বসেছিল শিশুটি, আর গাড়ি চালাচ্ছিলেন তার বাবা। যাত্রাগাছির কাছে পৌঁছানোর মুহূর্তেই সামনের সিট থেকে আচমকা পিছনের সিটে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে শিশুটি। ঠিক সেই সময়ই ছোট মেয়ের কাণ্ডকারখানায় চালকের মনোযোগ কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং গাড়িটির ওপর থেকে তাঁর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিয়ন্ত্রণ হারানোর জেরে গাড়িটি প্রথমে ফুটপাথের রেলিংয়ে পরপর ধাক্কা মারে এবং তার পরেই তীব্র বেগে সরাসরি বাগজোলা খালের গভীর জলে গিয়ে উল্টে পড়ে।

ঘটনার আকস্মিকতায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিপদ বুঝতে পেরে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে এগিয়ে আসেন এক সাহসী পথচারী মহিলা। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত জলের মধ্যে নেমে গাড়ি থেকে প্রথমে শিশুকন্যাটিকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন। এর পরেই আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দলবেঁধে ছুটে আসেন এবং একে একে গাড়িচালক ও তাঁর স্ত্রীকে অক্ষত শরীরে উদ্ধার করেন। বরাতজোরে বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান তিনজনই। এছাড়া গাড়িটি খালের মাঝখানে পুরোপুরি জলে ডুবে না গিয়ে ধারের জঞ্জালের স্তূপে আটকে যাওয়ায় বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পরে ক্রেন এনে গাড়িটিকে খাল থেকে ওপরে তোলা হয়। উল্লেখ্য, ঠিক এর আগেই গত ১২ আগস্ট কেষ্টপুরে গাড়ি চালানো শেখার সময় পুকুরে গাড়ি পড়ে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি ফের একবার তাজা হয়ে উঠলেও, নিউ টাউনের এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।