“মায়ের মরদেহের পাশে চূর্ণ চিন্ময়কৃষ্ণ!”-মোদী-শুভেন্দুকে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক প্রশ্ন

মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সেই হৃদয়বিদারক ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘ কারাবাস ও আইনি লড়াই শেষে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার এই মুহূর্তটি শুধু মর্মস্পর্শীই নয়, রাজনৈতিক মহলে তৈরি করেছে নতুন বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে চিন্ময়কৃষ্ণের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের হাটহাজারির পুন্ড্রিক ধামে। দীর্ঘ প্রায় দু’বছর কারাবাস এবং আইনি লড়াইয়ের পর মা সন্ধ্যারানি ধরের অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত প্যারোল পান চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। মায়ের মৃতদেহের পাশে বসে এই হিন্দু সাধুর কান্নার সেই দৃশ্য ভাইরাল হতেই চারদিকে শুরু হয় তোলপাড়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের যে রাজনৈতিক দলগুলো সাধুর মুক্তির দাবিতে কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছিল, তারা আজ ক্ষমতায় এসে চুপ কেন? কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং এ রাজ্যের বিরোধী দল কী করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একসময়ে যে দল গেরুয়া বস্ত্রের সম্মান রক্ষায় পথে নেমেছিল, আজ তারা কেন এই ইস্যুতে নীরব, সেই প্রশ্ন তুলেছেন এই তৃণমূল নেতা। যদিও দলগতভাবে এই ঘটনাকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন তিনি, তবুও সাধুর এই করুণ পরিণতি নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করতে ছাড়েননি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার, আইনজীবীর মৃত্যু সংক্রান্ত মামলা এবং আদালতে তাঁকে ঘিরে ওঠা স্লোগান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তসলিমা নাসরিনের মতো লেখকরাও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত শোকের এই মুহূর্তেও চিন্ময়কৃষ্ণের ইস্যুটি ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায় এক নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।