গণেশ চতুর্থীতে তুলসী পাতা কেন একেবারেই নিষিদ্ধ? জানুন এর পিছনের চমকপ্রদ পৌরাণিক রহস্য!

আসন্ন গণেশ চতুর্থী ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হতে চলা এই দশদিনের উৎসবে বিঘ্নহর্তাকে বরণ করে নিতে মুখিয়ে রয়েছেন ভক্তরা। গণেশ পুজো মানেই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় দূর্বা ঘাস এবং মোদকের নৈবেদ্য। হিন্দু ধর্মে তুলসী পাতা অত্যন্ত পবিত্র এবং ভগবান বিষ্ণুর আরাধনায় এটি অপরিহার্য হলেও, গণেশজিকে কিন্তু ভুলেও তুলসী পাতা নিবেদন করা হয় না। এর পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় পৌরাণিক কাহিনী।
পুরাণ অনুসারে, একসময় গঙ্গা নদীর তীরে ধ্যানে মগ্ন ছিলেন ভগবান গণেশ। সেই পথেই যাচ্ছিলেন দেবী তুলসী। ধ্যানে থাকা গণেশের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তুলসী। কিন্তু গণেশজি সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানান যে তিনি আজীবন ব্রহ্মচারী থাকতে চান। এই প্রত্যাখ্যানে ক্ষুব্ধ হয়ে তুলসী দেবী গণেশজিকে এক অসুরকে বিয়ে করার অভিশাপ দেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গণেশজিও তুলসীকে একটি পবিত্র উদ্ভিদ হয়ে ওঠার এবং পরবর্তীতে এক অসুর পত্নী হওয়ার অভিশাপ দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে তুলসী নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে, গণেশজি তাঁকে বর দেন যে তিনি ভগবান বিষ্ণুর প্রিয়পাত্র হবেন এবং গোটা বিশ্বে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে পূজিত হবেন। সেই থেকেই বিষ্ণু বা কৃষ্ণের পুজোয় তুলসীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও গণেশের আরাধনায় তুলসী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়ে গেছে। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিচ্ছাকৃতভাবে পুজোয় তুলসী পড়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে শ্রদ্ধাভরে তা সরিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিলেই চলে। গণেশ পুজোর মূল আকর্ষণ হিসেবে একবিংশ শতাব্দীতেও দূর্বা নিবেদনের প্রথাই সর্বজনগ্রাহ্য।