যে রামের অপমান করবে, জনগণ তাকে শিক্ষা দেবে! নেতাজি ইন্ডোরে দাঁড়িয়ে কার দিকে আঙুল তুললেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত তিনদিনের জমজমাট ‘রাম কথা’ অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে একগুচ্ছ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কঠোর হুশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনের দিনে কলকাতায় হওয়া পালটা মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে পূর্ববর্তী শাসক ও বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর সতর্কবার্তা, যারা শ্রীরামকে অপমান করবে, সাধারণ মানুষ তাদের যোগ্য জবাব দেবে এবং ভবানীপুর নির্বাচনই তার চাক্ষুষ প্রমাণ। ড. কুমার বিশ্বাসের উপস্থিতিতে এই আধ্যাত্মিক মঞ্চ থেকেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও আইনগত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) চালুর পাশাপাশি ধর্মান্তরকরণ রোধে কড়া আইন আনার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তোষণের রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা করে তিনি জানান যে ইতিমধ্যেই ইমাম ভাতা বা অন্যান্য ক্ষতিপূরণের মতো অনুদান বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ রোখাই যে তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ-কে ইতিমধ্যেই প্রায় নব্বই শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোমাতা রক্ষায় ১৯৫০ সালের ক্যাটল অ্যাক্ট কার্যকর করার পাশাপাশি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবাবেগকে সামনে রেখে বেশ কিছু বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মহালয়ার আগে রাজ্যে কোনো দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা যাবে না এবং মহাষ্টমীর দিন গোটা রাজ্যে সমস্ত মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া আগামী দিনে নভেম্বর মাসে হনুমান চালিশা পাঠ, ডিসেম্বরে ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ মানুষের গীতা পাঠ এবং জানুয়ারিতে স্বামী রামভদ্রাচার্যের ১০০০ কুণ্ডের যজ্ঞের মতো বড় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বলা বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে আইনগতভাবে তার মোকাবিলা করা হবে। ছোট থেকেই শিশুদের গীতা পাঠ, শঙ্খ বাজানো ও সনাতন সংস্কারে বড় করে তোলার ওপর জোর দিয়ে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।