মার্কিন ডলারের দাদাগিরি শেষ করতে মেগা মাস্টারপ্ল্যান! ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগেই বড় হুংকার ইরানি প্রেসিডেন্টের!

ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক প্রাক্কালে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ও তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অর্থনৈতিক একাধিপত্য খর্ব করার ওপর জোরদার সওয়াল করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আসন্ন এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিভিন্ন দেশের ওপর অনৈতিক একতরফা আধিপত্যের মোকাবিলা করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা বর্তমান ব্রিকস জোটের অন্যতম প্রধান ও সর্বাগ্রে কৌশলগত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ও আগ্রাসী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে যে কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ইরান অন্যতম। দীর্ঘকাল ধরে চলা এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার জেরে পারস্য উপসাগরের এই দেশটির অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই গভীরভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিংটন প্রশাসন সুকৌশলে মার্কিন ডলারকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এর ফলস্বরূপ রাশিয়া এবং ইরানের মতো সার্বভৌম দেশগুলির শত শত কোটি ডলারের বিদেশি সম্পদ ও বৈদেশিক রিজার্ভ আমেরিকা অন্যায়ভাবে জব্দ করে রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের আগে ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের এই কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলারের দীর্ঘদিনের একাধিপত্যকে নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে এক বড় কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন মুদ্রার আধিপত্যকে খর্ব করতে এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়াতে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র কীভাবে প্রসারিত করা যায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ও পুঁজিবাজার।