কেন্দ্রের চিঠিতে অস্বস্তিতে কেরালা সরকার! মডেল স্কুল প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কি বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটবেন?

‘প্রধানমন্ত্রীর স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া’ তথা পিএম শ্রী (PM SHRI) প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে কেরালা সরকারের ওপর লাগাতার চাপ বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার বিদ্যালয়কে অত্যাধুনিক মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর করার এই উচ্চাভিলাষী কেন্দ্রীয় প্রকল্পের খসড়া নিয়ে কেরালা ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব কেরালার মুখ্যসচিবের কাছে কড়া ভাষায় একটি চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ে অতি দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

যদিও কেরালার সাধারণ শিক্ষামন্ত্রী এন. শামসুদ্দিন জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার এই সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের অন্দরে তীব্র আপত্তি ও রাজনৈতিক অস্বস্তি এখনও কাটেনি। মন্ত্রীর মতে, শুধুমাত্র শিক্ষা দফতরের একক সিদ্ধান্তে এই প্রকল্প কার্যকর করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী এবং সংযুক্ত গণতান্ত্রিক মোর্চা (UDF) নেতৃত্বের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরেই রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেরালায় পিএম শ্রী প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে বাম সরকারের আমলে এই প্রকল্প চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে শাসক জোটের অন্দরেই প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিরোধীরাও এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমান সরকার পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা উপ-কমিটি গঠন করে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল প্রকল্পের প্রতিটি শর্ত খতিয়ে দেখা এবং রাজ্য এই জোড়া শর্তযুক্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত থাকবে কি না, তা নির্ধারণ করা।

কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার পর কেরালা সরকার এখন ঘরোয়া বৈঠকে বসেছে। তবে তারা এখনও পর্যন্ত পিএম শ্রী প্রকল্প চালুর বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিলমোহর দেয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার জেরে আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে প্রশাসনিক ও নীতিগত বিতর্ক আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, পিএম শ্রী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো উন্নততর পরিকাঠামো গড়ে তোলা, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর রূপায়ণ ঘটানো। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পের সুফল পাবে দেশের প্রায় ১৮ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী।