“ভারতে উপস্থিত শি জিনপিং!”-পুতিনকে সঙ্গে নিয়ে কোন ঐতিহাসিক বৈঠকে বসছেন মোদী?

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতারা ইতিমধ্যেই রাজধানীতে এসে পৌঁছেছেন। বর্তমান বিশ্বজুড়ে চলা সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্যিক টানাপড়েনের আবহে এই সম্মেলনকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ভারত। এ বারের ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা বা থিম হলো— স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, আগামী কয়েকদিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নেতারা ব্রিকস সম্মেলনে একত্রিত হবেন। বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে এই সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে বলে তিনি সম্পূর্ণ আত্মস্বাসী। বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির যৌথ কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করার ওপর জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাণিজ্য, যুদ্ধ ও জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চলতি ব্রিকস সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বাড়তে থাকা চাপ— সবই এ বারের আলোচনার মূল এজেন্ডায় রয়েছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে আরও স্থিতিশীল সরবরাহ-শৃঙ্খল গড়ে তোলা, উন্নয়নশীল দেশগুলির বাণিজ্য অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
মুখোমুখি মোদী-শি এবং মোদী-পুতিন মেগা বৈঠক এ বারের শীর্ষ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতীয় মাটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার মতো বিষয়গুলি আলোচনায় উঠতে পারে।
পাশাপাশি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দুই নেতার এই বৈঠকে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাকি অংশ সরবরাহ, জ্বালানি সহযোগিতা, অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং ইউক্রেন সংঘাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি স্থান পাবে।
ব্রিকসের সম্প্রসারণের ফলে এই জোটের আন্তর্জাতিক প্রভাব এখন অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল পাঁচ দেশের (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা) পাশাপাশি মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও এখন এর সদস্য। ফলে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই সম্মেলন ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।