খুনের তদন্তে বড় মোড়! মূল অভিযুক্তকে লুকিয়ে রাখার অপরাধে হাতকড়া পরল কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট!

জামশেদপুরে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার তদন্ত মোড় নিল এক অপ্রত্যাশিত দিকে। এই তদন্তে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে কলকাতা থেকে এক পুলিশ সার্জেন্ট ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে জামশেদপুরের হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে রাখার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। খোদ আইনরক্ষকদের এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি বিশেষ দল সম্প্রতি কলকাতায় এসে এই ঝটিকা অভিযান চালায়। ধৃত কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং সিভিক ভলান্টিয়ার পিঙ্কেল দাসের নাম উঠে আসে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামশেদপুরে সংঘটিত একটি খুনের ঘটনার পর মূল অভিযুক্তরা পালিয়ে এসে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিল। আর এই অভিযুক্তদের আত্মগোপন করার সমস্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ওই পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার। তাদের এই প্রত্যক্ষ সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরেই ঝাড়খণ্ড পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, জামশেদপুরের ওই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে গিয়ে গোয়েন্দারা অভিযুক্তদের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং কল ডিটেইলস ট্র্যাক করতে শুরু করেন। তখনই তদন্তকারীদের নজরে আসে কলকাতার কিছু প্রভাবশালী যোগাযোগ। খতিয়ে দেখা যায়, মূল অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং পিঙ্কেল দাস। শুধু যোগাযোগ রাখাই নয়, তাদের কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফ্ল্যাট বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে থাকার সুব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। আইনের উর্দ্ধে থেকে অপরাধীদের এভাবে রক্ষা করার চেষ্টা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই গ্রেফতারির খবর সামনে আসার পর থেকেই কলকাতা পুলিশ মহলেও চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঠিক কী কারণে এবং কার স্বার্থে এই দুই কর্মী অভিযুক্তদের সহায়তা করছিলেন। এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র বা আর্থিক লেনদেন কাজ করছিল কি না, তাও তদন্তের পরিধিতে রাখা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিজেদের রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে তাদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে অপরাধের শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রক্ষক যদি নিজেই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে এখন জোরদার বিতর্ক শুরু হয়েছে। জামশেদপুর ও কলকাতা—উভয় শহরের পুলিশ প্রশাসনের জন্যই এই ঘটনা একটি বড় ধাক্কা। আগামী দিনে এই তদন্তে আরও কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।