আমেরিকার বুকে কাঁপন ধরাচ্ছে ব্রিকস! ডলার সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে ট্রাম্পের হুমকিতে লুকিয়ে কোন বড় রহস্য?

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই শক্তিশালী গোষ্ঠীটি আজ কেবল আলোচনার মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের এক প্রবল কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে ব্রিকস, যা ক্রমশ মার্কিন মুলুকে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেই স্পষ্ট যে, বিশ্বমঞ্চে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কতটা ভাবিয়ে তুলছে ওয়াশিংটনকে।
পঞ্চাশের দশকে গড়া বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো বহু বছর ধরে পশ্চিমা শক্তির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চীন, ভারতসহ উদীয়মান দেশগুলোর শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবিই আজ ব্রিকসের ভিত শক্ত করেছে। ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও পশ্চিমা অর্থনীতি যখন ধুঁকছিল, তখন এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলো নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছিল।
কীভাবে কাজ করে ব্রিকস? অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মতো ব্রিকসের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সদর দপ্তর, সংসদ বা সরকার নেই। পালাক্রমে প্রতি বছর একটি সদস্য দেশ এর সভাপতিত্ব করে এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ বা এনডিবি এবং কন্টিনজেন্ট রিজার্ভ অ্যারেঞ্জমেন্টের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করেছে যে, ব্রিকস কেবল কথার কথা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বিকল্প পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গণ্ডি পেরিয়ে মিশর, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশগুলো এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এখন আকাশছোঁয়া।
ডলারের খেলা ও আমেরিকার ভয় আমেরিকার ভয়ের আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য ভাঙার প্রচেষ্টায়। ব্রিকস দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সরাসরি মার্কিন অর্থনীতির প্রধান অস্ত্র ‘ডলারের একাধিপত্য’-কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ট্রাম্প অতীতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, মার্কিন ডলারকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করলে সদস্য দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক চাপানো হবে। বিশ্ব বাণিজ্যের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এই অর্থনৈতিক সমীকরণই আজ মার্কিন নীতিনির্ধারকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।