২০২৭-এর আগে বিরাট মাস্টারস্ট্রোক! উত্তরপ্রদেশে বিরোধীদের কোন কৌশলে টেক্কা দিতে চলেছে বিজেপি?

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো এখন থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। লখনউয়ে রাজ্য সদর দপ্তরে দলের সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দিনে তারা আর অন্যের তৈরি আখ্যান বা ন্যারেটিভের অনুসারী হয়ে থাকতে চায় না, বরং নিজেই আখ্যান সৃষ্টিকারী বা ন্যারেটিভ মেকার হতে চলেছে।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় দলীয় কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের ছড়ানো বিভিন্ন নেতিবাচক পরিবেশ, গুজব ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে বুথ স্তরে চটজলদি সত্য তথ্য দিয়ে জবাব দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। দলের রাজ্য সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক ধরমপাল সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য একটি বিশেষ টিম প্রস্তুত করার তাগিদ দিয়েছেন, যা যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক বিষয় সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে পারে।
শুধু বিরোধীদের আক্রমণ প্রতিহত করাই নয়, যোগী আদিত্যনাথ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে ডিজিটাল অস্ত্রে পরিণত করতে চাইছে দল। সরকারি প্রকল্পের নিছক তালিকা প্রকাশের বদলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হচ্ছেন এবং তার সুফল কতটা মিলছে, সেই বাস্তব চিত্রগুলো স্থানীয় কনটেন্টের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এই ডিজিটাল নেটওয়ার্ককে একেবারে তৃণমূল স্তরে বা বুথ পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে তরুণ প্রজন্মকে ‘সাইবার যোদ্ধা’ হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের চরিত্র অনুযায়ী আলাদা আলাদা কনটেন্ট তৈরির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে বিজেপি কেবল প্রথাগত জনসভা বা জাতপাতের সমীকরণের ওপর নির্ভর না করে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সুসংগঠিত সাইবার বাহিনীর মাধ্যমেই রাজনৈতিক ময়দান দখল করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।