৬১ বছরের অপেক্ষা! বার্ধক্য ভাতা পেতেই পৌরসভার গেটে অভিনব ব্যানার টাঙিয়ে প্রতিবাদ বৃদ্ধপুত্রের?

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রামজীবনপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা তাপস হোতা দীর্ঘ লড়াই ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে বার্ধক্য ভাতা হাতে পেয়ে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদের পথ বেছে নিলেন। ৬৮ বছরের বৃদ্ধ বাবার জন্য বহু বছর ধরে একাধিকবার আবেদন করেও এতদিন মেলেনি কোনো সুরাহা। অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিজেপি সরকারের আমলে চলতি মাসে প্রথম দেড় হাজার টাকার ভাতা হাতে পেতেই পৌরপ্রশাসনের বঞ্চনা ও উদাসীনতার বিরুদ্ধে এক অনন্য উপায়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাপস। পৌরসভার প্রধান ফটকে একটি বিশাল ব্যানার টাঙিয়ে তিনি এমন এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ওই ব্যানারে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত বাণী উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে— “মানুষের প্রধান কর্তব্য তাকে এমনটি হতে হবে, যাতে তাকে মানুষ বলে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।” এই কবিতার পংক্তির মাধ্যমেই মূলত জনপ্রতিনিধি ও পৌরপিতাদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। এর ঠিক নিচেই স্থানীয় প্রশাসনকে ‘শতকোটি প্রণাম ও অসংখ্য ধন্যবাদ’ জানিয়ে এক তীক্ষ্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক খোঁচা দিয়েছেন তাপস। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং অবিচারের অভিমানকে আড়াল না করে এক শৈল্পিক ও শ্লেষাত্মক রূপ দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সাধারণ মানুষ কীভাবে নীরব থেকেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ জাহির করতে পারে।

শুধু ব্যানার টাঙিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি এই প্রতিবাদী সন্তান। পৌরসভার কর্মীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে নিজের প্রতিবাদের ভাষা আরও জোরালো ও অভিনব করে তোলেন তিনি। তাপসের এই অদ্ভুত ধন্যবাদ জ্ঞাপনের ছবি ও ব্যানার মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। পথচলতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারাও পৌরসভার গেটের সামনে ভিড় জমিয়ে এই ব্যানার দেখতে শুরু করেন। কেউ কেউ এটাকে বাবার প্রতি এক সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্মান বলে অভিহিত করছেন, আবার অনেকে একে দুর্নীতিগ্রস্ত ও উদাসীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বুদ্ধিদীপ্ত ও নীরব চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন।