শালবনি জমি দুর্নীতি কাণ্ডে চরম বিপাকে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ সুমিত! সুপ্রিম কোর্টে ঝটকার পর কি গ্রেপ্তারির মুখোমুখি?

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় আইনি ধাক খেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। বহুচর্চিত এই দুর্নীতির মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর পদক্ষেপে সুমিত রায়ের গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা, যা শাসক শিবিরের অন্দরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এদিন সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক কিছু তথ্য পেশ করেন। আদালতের সামনে দাবি করা হয় যে, শালবনির এই বিতর্কিত জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা সুমিত রায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ নগদ জমা দেওয়ার সন্ধান পেয়েছেন। আদালতের মতো উচ্চস্তরে এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় মামলাটি সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সাধারণ একজন আপ্তসহায়কের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এত বিশাল পরিমাণ নগদ অর্থ কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে এল?

আইনি প্রক্রিয়ায় আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ায় সুমিত রায়ের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা এখন যেকোনো মুহূর্তে তাঁকে জেরা করতে বা আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিরোধী দলগুলি এই বিশাল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাসক দলকে লাগাতার আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। সবমিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং এই আর্থিক কেলেঙ্কারির নেপথ্যে আর কারা যুক্ত রয়েছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।