মোদির কাছে স্ত্রীর সেই কাতর আর্জি কাজ করল! রাশিয়ার বন্দিদশা কাটিয়ে অবশেষে ঘরে ফিরলেন কানপুরের যুবক

রাশিয়ায় কয়েক দিন ধরে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন উত্তর প্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা তথা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার চন্দন গুপ্ত। সমস্ত ভয় ও আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে তিনি এখন নিরাপদে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে চন্দনের ফিরে আসার এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্ত্রী স্নেহা গুপ্ত।

কর্মসূত্রে কাজের ভিসা নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন চন্দন। কিন্তু গত শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসন তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট। সুদূর মস্কোয় দশ বছরের সন্তানকে নিয়ে একাকী দিন কাটানো স্নেহা প্রথমে বুঝতেই পারেননি ঠিক কী ঘটে চলেছে। পরবর্তীতে স্বামীর এক বন্ধুর মারফত পুরো ঘটনাটি জানার পর তিনি দারুণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্বামী কোনও অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওপর রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে জোর করে নাম লেখানোর মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ভয় চেপে বসেছিল। এই চরম অসহায় অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে স্বামীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের কাতর আবেদন জানান। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তৎপরতা শুরু করে ভারতীয় দূতাবাসও।

স্বামীর এই সংকটের দিনে তাঁর পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল চন্দনের কর্মসংস্থানকারী সংস্থা ইউফ্লেক্স লিমিটেড। সংস্থাটির রাশিয়ার শাখা প্রশাসন নিয়মিত স্নেহার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে এবং তাৎক্ষণিকভাবে চন্দনের মুক্তির জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করে। তাদের নিযুক্ত করা আইনজীবীর মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ছাড়া পান এই ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার।

স্বামীর মুক্তির পর স্নেহা সংবাদমাধ্যমে চন্দনের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উড়ো দাবি বলে খারিজ করে দিয়েছেন। এই কঠিন ও বিপর্যয়ের সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সংস্থা কর্তৃপক্ষ, বিজেপি সাংসদ সীমা দ্বিবেদী এবং সর্ব বৈশ্য সমাজের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ঠিক কী কারণে চন্দনকে হঠাৎ আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে রাশিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর চন্দন সুস্থ শরীরে বাড়ি ফেরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তাঁর পরিবার।