‘ভীতু হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল!’ রেকর্ড মৃত্যুদণ্ড দিয়ে কেন এমন বিস্ফোরক মন্তব্য এই বিচারকের?

একের পর এক ঐতিহাসিক ও কঠোর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবি কুমার দিবাকর। সম্প্রতি একটি পণের মামলার রায়দান করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অপরাধীদের চাপে তিনি কোনওভাবেই মাথা নোয়াবেন না। এমনকি রায়দানের সময় বিচারক নিজেই মন্তব্য করেন, “ভীতু বিচারক বলার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল।”
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই শাহপুর এলাকায় নদীম নামে এক ব্যক্তি তাঁর ২৩ বছরের স্ত্রী শাহজাদিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। পণের দাবিতে এই নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর আগে শাহজাদির দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে আদালত এই মামলাটিকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বিচার চলাকালীন ১১ জন সাক্ষী নিজেদের বয়ান থেকে সরে দাঁড়ালেও, বিচারক দিবাকর অভিযুক্ত নদীমকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৫০৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়।
রায় ঘোষণার পর বিচারক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে গ্যাংস্টার, অপরাধী বা মাফিয়াদের কোনও ধরনের চাপের কাছে তিনি নতিস্বীকার করবেন না। নীতি ও আদর্শ মেনে যতদিন চাকরি করা সম্ভব, ততদিন তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। অন্যথায় প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগ করবেন বলেও জানান।
তাঁর আরও অভিযোগ, অপরাধী ও মাফিয়াচক্রের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন। গত আগস্টে মাফিয়াদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে তাঁর আদালত থেকে প্রায় ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি প্রমোদ ত্যাগী জানান যে কঠোর রায়ের আশঙ্কায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের উদ্বেগের ফলেই দিবাকরের এজলাস থেকে মামলাগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে বিচারকের দেওয়া এই মৃত্যুদণ্ডের রায়গুলি বর্তমানে উচ্চ আদালতের আপিল ও অন্যান্য বিচারপ্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। দেশজুড়ে চলা এই বিতর্ক এবং চাপের মুখেও বিচারকের এমন নাছোড়বান্দা ও আপসহীন মনোভাব এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।