১০০ শতাংশ সাক্ষরতার দিকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! দেশের সেরার তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এল এই রাজ্য

শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল হিমাচল প্রদেশ। কেন্দ্রের সুপরিচিত ‘উল্লাস’ (ULLAS) কর্মসূচির সফল রূপায়ণের হাত ধরে পাহাড়ি এই রাজ্যে সার্বিক সাক্ষরতার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৯.৫৫ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ হিমাচল প্রদেশকে একটি মর্যাদাক্রম জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবন কিংবা নির্ধারিত সমারোহে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে এই সুমহান সম্মান গ্রহণ করেন হিমাচল প্রদেশের বিশিষ্ট শিক্ষামন্ত্রী রোহিত ঠাকুর। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি উৎসর্গ করেছেন রাজ্যের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকসমাজ, উৎসুক শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক এবং প্রশাসনের কর্মঠ সরকারি আধিকারিকদের।
সরকার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে গোয়া, যাদের সাক্ষরতার হার ৯৯.৭ শতাংশ। ঠিক তার পরেই অর্থাৎ ৯৯.৫৫ শতাংশ সাক্ষরতার হার নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে হিমাচল প্রদেশ। এর আগে গত ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হিমাচল প্রদেশকে একটি সম্পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যে সময় রাজ্যের সাক্ষরতার হার ছিল ৯৯.৩ শতাংশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও উন্নত হয়েছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চাভিলাষী ‘উল্লাস’ কর্মসূচিটি ২০২২-২৩ সালে দেশজুড়ে শুরু হলেও হিমাচলে তা ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কার্যকর করা হয়। রাজ্যের সমস্ত ১২টি জেলায় এই কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে প্রায় ৯৪,৯৩০ জন শিক্ষার্থীর সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তা ‘উল্লাস’ পোর্টালে সাফল্যের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ১৯,২৩২ জন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক এতে নিজেদের নাম রেজিস্টার করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তবে এখানেই থেমে থাকতে নারাজ হিমাচল প্রদেশ সরকার। সাক্ষরতার হার কেবল ৯৯ শতাংশে আটকে না রেখে আগামী ২০২৬-২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যটিকে শতভাগ বা ১০০ শতাংশ সাক্ষর রাজ্যে রূপান্তরিত করার এক সুদূরপ্রসারী ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষালাভ, ডিজিটাল লিটারেসি বা ডিজিটাল শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী নানা বৃত্তিমূলক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই বিপ্লব আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।