জিম করার সময় ভুল পোশাক পরছেন না তো? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ, জেনে নিন সঠিক নিয়ম!

জিমে যাওয়ার আগে কমবেশি সকলেই একটা সাধারণ দ্বিধায় ভোগেন যে ব্যায়ামের জন্য ঢিলেঢালা নাকি আঁটসাঁট পোশাক বেছে নেওয়া উচিত। মূলত, এই প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট বা একক উত্তর নেই, কারণ সঠিক জিমের পোশাক সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনি কী ধরনের শারীরিক কসরত করছেন, বর্তমান আবহাওয়া, আপনার ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য এবং চলাফেরার ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম বা কার্ডিওর জন্য শরীরের সাথে লেগে থাকা ফিটেড পোশাক বেশি আরামদায়ক হয়। পক্ষান্তরে, যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং এবং হালকা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজের জন্য কিছুটা ঢিলেঢালা পোশাকই বেশি উপযোগী। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার পোশাকটি যেন কোনোভাবেই শারীরিক নড়াচড়ায় বাধা সৃষ্টি না করে এবং ব্যায়ামের সময় বারবার তা ঠিক করার প্রয়োজন যেন না পড়ে।
আপনি যদি ট্রেডমিলে নিয়মিত দৌড়ান, সাইকেল চালান বা এমন কোনো কার্ডিও ওয়ার্কআউট করেন যাতে ক্রমাগত ও জোরালো নড়াচড়া করতে হয়, তবে ইলাস্টিকযুক্ত ও শরীরের সাথে মানানসই ফিটেড পোশাক বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ফিটেড লেগিংস, রানিং শর্টস বা ফিটেড টি-শার্ট শরীরের সাথে নিখুঁতভাবে লেগে থাকে, ফলে ব্যায়ামের সময় অতিরিক্ত কাপড়ের কারণে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে না। বিশেষ করে দৌড়ানোর সময়, কাপড়ের অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া, দৌড়ানোর জন্য এমন কাপড় বেছে নেওয়া উচিত যা ত্বক থেকে দ্রুত ঘাম শুষে নিতে এবং শরীরকে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে।
ওয়েট ট্রেনিং বা শক্তি-বর্ধক ব্যায়ামের ক্ষেত্রে পোশাকের ধরন কেমন হওয়া উচিত? স্কোয়াট, লাঞ্জ, ডেডলিফ্ট এবং অন্যান্য ভারী ওজন তোলার সময় পোশাক এমন হওয়া উচিত যাতে শরীরের সঠিক ভঙ্গি ও পেশির নড়াচড়া আয়নার সহজে দেখা যায়। তাই, অতিরিক্ত ঢিলেঢালা কাপড়ের চেয়ে সামান্য প্রসারণযোগ্য বা ফিটেড পোশাক অনেক বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ। এই ধরনের পোশাক ঘন ঘন ঠিক করার ঝামেলা কমায় এবং অনুশীলনের সময় নিখুঁত পজিশন বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পোশাক যেন এতটাও আঁটসাঁট না হয় যা আপনার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বা নড়াচড়ায় বাধা সৃষ্টি করে।
HIIT এবং উচ্চ-তীব্রতার ওয়ার্কআউটের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। সার্কিট ট্রেনিং এবং অন্যান্য তীব্র কার্যকলাপে শরীরকে ক্রমাগত লাফানো, স্কোয়াট এবং বার্পির মতো দ্রুত নড়াচড়া করতে হয়। এই ধরনের ক্ষিপ্র ওয়ার্কআউটের জন্য আঁটসাঁট অথচ ফ্লেক্সিবল বা প্রসারণযোগ্য পোশাক অত্যন্ত সহায়ক। দ্রুত নড়াচড়ার সময় ঢিলেঢালা কাপড় জিমের ভারী যন্ত্রপাতিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে বা বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই এই ধরনের সেশনের জন্য ফিটেড টপস, শর্টস বা লেগিংস সবচেয়ে বেশি ব্যবহারিক ও নিরাপদ পছন্দ।
অন্যদিকে, যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিংয়ের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের পোশাকের প্রয়োজন হয়। যোগব্যায়াম বা বিভিন্ন ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজের সময় শরীরকে নানা দিকে বাঁকাতে ও প্রসারিত করতে হয়। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি আঁটসাঁট পোশাক পরা অস্বস্তিকর হতে পারে। কিছুটা ঢিলেঢালা অথচ আরামদায়ক পোশাক শরীরকে অবাধে নড়াচড়া করতে সহায়তা করে। ফ্লোয়ি টপস বা আরামদায়ক স্ট্রেচি বটমস বেছে নেওয়া ভালো, যা শরীরের চলাচলে বাধা দেয় না। তবে পোশাক যেন এতটাও ঢালু বা বড় না হয় যে আসন করার সময় তা বারবার চোখের সামনে চলে আসে বা ঠিক করতে হয়।
ওয়ার্ম-আপ, কুল-ডাউন বা হালকা ব্যায়ামের সময় অনেকেই বড় আকারের বা আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পছন্দ করেন। এই সময়গুলোতে ওভারসাইজড টি-শার্ট বা জগার্স দারুণ স্বস্তি দিতে পারে। তবে কেবল মাপ বা ফিটিংসই নয়, কাপড়ের গুণগত মানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর ঘাম ঝরে এমন ব্যায়ামের জন্য হালকা, শ্বাসরোধী এবং আর্দ্রতা শোষণকারী ফেব্রিক বেছে নেওয়া উচিত। ভারতের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ফেব্রিক শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে।